ফুটবল নৈপুণ্যে বিশ্বজয়ী জুবায়েরের পাশে বরিশাল জেলা প্রশাসন

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২০

শফিক মুুুুন্সি ॥

নেক থ্রো অ্যান্ড ক্যাচেস ক্যাটাগরিতে মিনিটে ৬৫ বার ফুটবল নিক্ষেপ ও ধরে ফেলে বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছেন বরিশালের জুবায়ের। গত ৩০ জুলাই তাঁর করা নতুন বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড থেকে ঝালকাঠির নিজ বাড়িতে চিঠি আসে। জুবায়েরের এই কৃতিত্বকে সংবর্ধিত করতে বরিশালের জেলা প্রশাসন উদ্যোগী হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ক্রেস্ট, নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী দিয়ে তাকে সংবর্ধিত করা হয়েছে।

পুরো নাম আশিকুর রহমান জুবায়ের। পড়াশোনা করেন বরিশাল ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় (বিএম) কলেজে। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল নিয়ে মাতামাতি তাঁর। কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের ছয় সদস্যের সংসারে তাঁর ফুটবল আগ্রহ আলাদা কোনো অর্থযোগ করতে পারে নি। তবে তাতে জুবায়েরকে ফুটবল থেকে আলাদা করা যায় নি। ছোট থেকে বড় হতে হতে জুবায়েরের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে গেছে ফুটবল। আর তাই ফুটবল নিয়ে লেগে থাকা চর্চা তাকে এনে দিয়েছে বিশ্ব স্বীকৃতি।

জুবায়েরের পিতা জালাল আহম্মেদ পেশায় ঠিকাদার। তিনি জানান, ছোটবেলায় ফুটবলের নেশায় পেয়ে বসে জুবায়েরকে। ফুটবল খেলে কিছু হতে হবে সেজন্য নয়, শুধুই ভালোবাসা থেকে চর্চা শুরু। শুরুতে ঘরের সামনের মাঠে ফুটবল খেলে কাটতো অবসর। ধীরে ধীরে তা পরিণত হয় অভ্যাসে। আর এখন ফুটবল ছাড়া চলতেই পারে না সে।

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বলছে, জুবায়েরের আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর জার্মানির মার্কেল গুর্ক যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে নেক থ্রো অ্যান্ড ক্যাচেস ক্যাটাগরিতে মিনিটে ৬২ বার বল নিক্ষেপ ও ধরে ফেলে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। তার রেকর্ড ভেঙে বাংলাদেশের জুবায়ের মিনিটে ৬৫ বার নেক থ্রো অ্যান্ড ক্যাচেসে সফল হন। যেকারণে গিনেস কর্তৃপক্ষ নদী বেষ্টিত ঝালকাঠি জেলা শহরের মসজিদ বাড়ি রোডের বাসিন্দা ঠিকাদার জালাল আহম্মেদের বাড়িতে একটি খামবন্দী চিঠি পাঠায়। সেখানে ছিল আশিকুর রহমান জুবায়েরের বিশ্বজয়ের স্বীকৃতিপত্র।

বিশ্বফুটবলের রাজপুত্র খ্যাত পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভক্ত জুবায়ের জানান, ফুটবল নিয়ে তাঁর মাতামাতি কারো কাছে আলাদা গুরুত্ব পায় নি। বরঞ্চ পরিবার থেকে সবসময় লেখাপড়া শিখে ভালো চাকরির পিছনে ছোটার উৎসাহ দেয়া হয়েছে। তাই পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় হবার স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিয়ে ফ্রি স্টাইলে ফুটবলের নানা কসরতের দিকে ঝোঁক বাড়ে তাঁর।

তিনি বলেন,‘ফুটবল খেলা ও ফুটবল নিয়ে কসরত আলাদা বিষয়। রোনালদোর খেলা দেখে ফুটবলের প্রেমে পড়ি। তবে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিতে খেলাটা পেশা হিসেবে নিতে পারি নি। যে কারণে পুরোপুরি নিমজ্জিত ফুটবলের ফ্রি স্টাইল কসরতে। ফুটবল নিয়ে নানা কসরত ভিডিও করে পাঠানো হয় গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে’।

এরপর বাকি কাজটা সেরেছে গিনেস কর্তৃপক্ষ। তাদের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাবার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুবায়েরকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। খবরের শিরোনাম হতে থাকে স্থানীয় পত্রিকায়। যার জের ধরে গতকাল বিকেলে বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান তাকে নিজ কার্যালয়ে আনান।

এসময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানান জেলা প্রশাসক। তাকে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে উপহার এবং নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্রশান্ত কুমার রায়, ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক আলমগীর খান আলো, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মোঃ হুসাইন আহম্মেদ, প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ প্রমুখ।

এসময় জেলা প্রশাসক বলেন,‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এ নিজের নাম লিপিবদ্ধ করা চেষ্টাসাধ্য কঠিন বিষয়। এজন্য নিয়মিত পরিশ্রম ও একনিষ্ঠ মনোযোগ দরকার। নতুন নতুন ইভেন্টে বাংলাদেশের মানুষ বিশ্ব রেকর্ড গড়বেন। তাতে শুধু ব্যক্তি সুনাম নয়, দেশের নাম ছড়িয়ে পড়বে সারা বিশ্বে। আর জুবায়েরের মতো যারাই এই কৃতিত্ব অর্জন করবে তাদের সকলের পাশে থাকবে বরিশাল জেলা প্রশাসন’। আর জুবায়ের বলেন,‘আমি চাই আমার রেকর্ডটি নতুন কেউ ভাঙুক। তাতে করে দেশের ফুটবল সর্ম্পকে মানুষের আগ্রহ বাড়বে’।

Sharing is caring!