ফিরতি যাত্রায় বরিশাল বন্দরে দ্বিগুণ ভিড় : যাত্রী চাপ সামলাতে বিশেষ সার্ভিস

প্রকাশিত: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০

খান রুবেল ॥ ঈদের সাত দিন পরে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে শুরু হয়েছে বিশেষ ঈদ সার্ভিস। যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে নিয়মিত ছয়টির সাথে স্পেশাল সার্ভিস হিসেবে ৯টি লঞ্চ বৃদ্ধি করে বিআইডব্লিউটিএ। সে হিসেবে ঈদের সপ্তম দিনে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল নদী বন্দর ত্যাগ করেছে দিবা ও রাত্রিকালীন মোট ১৫টি লঞ্চ।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ঈদ পরবর্তী সপ্তম দিনে শুধুমাত্র বরিশাল থেকে বিশেষ সার্ভিস চালুর পরেও শুক্রবার অধিকাংশ যাত্রীর স্থান মেলেনি লঞ্চের ডেকে। অনেকটা ওভার লোড হয়েই বরিশাল নদী বন্দর ত্যাগ করেছে অধিকাংশ লঞ্চ। আর বিশেষ সার্ভিসেও জায়গা না পাওয়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছতে বেছে নিতে হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক এবং বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ‘এবারের কোরবানির ঈদে নৌ পথে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের চাপ পূর্বের তুলনায় অনেক কম ছিলো। কিন্তু ঈদ পরবর্তী বরিশাল থেকে ঢাকা এবং চাঁদপুরমুখী যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘ঈদের তৃতীয় দিন থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকলেও করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে নদী পথে বিশেষ সার্ভিসের অনুমতি দেয়া হয়নি। তাই রোটেশন অনুযায়ী বরিশাল নদী বন্দর থেকে প্রতিদিন ৬টি করে যাত্রীবাহী লঞ্চ ঢাকায় আসা যাওয়া করেছি। তবে গত বৃহস্পতিবার বরিশাল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের চাপ অনেক বেড়ে যায়। এ কারণে বন্দরে বার্দিং করা ৬টি লঞ্চ ওভার লোডের আশঙ্কায় আগেভাগেই ঘাট ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ কারণে ঘাটে থাকা দুই এর তৃতীয় যাত্রীই ঢাকা যেতে পারেনি। তাদের বরিশাল নদী বন্দর, হোটেল কিংবা নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করতে হয়েছে।

আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ‘বৃহস্পতিবারের থেকেও শুক্রবার বরিশাল নদী বন্দরে যাত্রীদের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই নিয়মিত সার্ভিসে যুক্ত থাকা ৬টি লঞ্চ বরিশাল নদী বন্দর ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এর পরেও বেশিরভাগ যাত্রী নদী বন্দরে থেকে যান। তাই যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে শুধুমাত্র বরিশাল থেকে বিশেষ সার্ভিস শুরুর অনুমতি দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী সন্ধ্যা রাতের পরে বিশেষ সার্ভিস হিসেবে আরও ৯টি লঞ্চ বরিশাল নদী বন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

এর মধ্যে নিয়মিত সার্ভিসে যে ৬টি নৌ যান বরিশাল থেকে ছেড়ে গেছে তার মধ্যে দিবা সার্ভিসের এমভি গ্রিনলাইন-৩, রাত্রীকালীন সার্ভিস এমভি এ্যাডভেঞ্চার-৯, কুয়াকাটা-২, পারাবত-১১, সুন্দরবন-১১ ও সুরভী-৯।

এছাড়া এমভি পারাবত-৯, এমভি মানামী, এমভি এ্যাডভেঞ্চার-১, সুরভী-৮, সপ্তবর্ণা-১০, কীর্তনখোলা-১০, রেডসান-৫, রাজহংস-১০ ও ডায়মন্ড ৩ বিশেষ সার্ভিস হিসেবে বরিশাল নদী বন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর মধ্যে সপ্তবর্ণ, রেডসান, রাজহংস ও ডায়মন্ড লঞ্চ ভায়া চাঁদপুর হয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় বলে জানাগেছে।

বরিশাল সদর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, ‘ঈদের আগে এবং পরের দিন গুলোর তুলনায় বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবারে যাত্রীদের চাপ কয়েক গুণ বেশি ছিলো। অনেক মানুষ করোনা পরিস্থিতির কারণে ঈদের অনেক আগেই নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান নেয়। যারা নতুন করে কাজের সন্ধানে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছেন, ধারণা করা হচ্ছে এ কারণেই গত দু’দিন নৌ বন্দরে যাত্রীদের ভিড় বেশি ছিল।
তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগে থেকেই নৌ পুলিশ, থানা পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত ছিলেন। এর পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলাসহ সার্বিক বিষয়ে তদারকি করেছে জেলা প্রশাসন। যে কারণে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে শুক্রবার যাত্রী চাপ বেশি হলেও লঞ্চ কম থাকার কারণে কিছুটা বিশৃঙ্খলা ঘটনার আশঙ্কা দেখা যায়। তার আগেই বিশেষ সার্ভিস হিসেবে ৯টি লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক এবং বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা (যুগ্ম পরিচালক) আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ‘যাত্রী সাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে শুক্রবার বরিশাল থেকে ৯টি লঞ্চ স্পেশাল সার্ভিসের অনুমতি দেয়া হয়েছে। আশা করি যাত্রীরা নির্বিঘেœ বরিশাল থেকে ঢাকায় চলাচল করতে পেরেছেন।

Sharing is caring!