প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান মঠবাড়িয়ার ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগম

প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

মো. শাহজাহান, মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি ॥ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ৬ নং টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য (১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ড) মনোয়ারা বেগম। উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের হোগলপাতি গ্রামের মৃত আঃ মজিদ হাওলাদার ও চন্দ্রভান বিবির একমাত্র কন্যা। সাহসী এই নারীর শ্বশুর বাড়ি টিকাকাটা ইউনিয়নে। স্বামী সৌদি প্রবাসী আঃ জলিল মৃধা। মা-বাবার বঙ্গবন্ধু প্রীতি থেকেই আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের উৎসাহে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদিকাই শেষ নয় জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধিও। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীর ক্ষমতায়নে প্রতিবন্ধকতা ও অবহেলিত নারীদের নিয়ে এখন তিনি দেখা করতে চান প্রধানমন্ত্রীর সাথে।

জাতীয় নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ এর নৌকা মার্কার নির্বাচনী এজেন্ট হতে গিয়ে বিরোধী দলের হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বারবার। কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা মোকাবেলা করতে গিয়ে পরনে থাকা শাড়ি কেন্দ্রে ফেলে রেখেই বাড়িতে যেতে হয়েছিল তাকে। জনগণ ও আওয়ামী লীগের নেতারা সেটা মনে রেখেছিলেন বলে সরকারি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পেরেছেন তিনি।

এই নারী নেত্রীর ব্যক্তিগত কোন অভাব অভিযোগ না থাকলেও জনগণকে সন্তোষজনকভাবে সেবা দিতে না পারার ব্যর্থতার অভিযোগ নিজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দিকে।

সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত এই নারী ইউপি সদস্য বলেন, সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার নামে চেয়ারম্যান আমাদের স্বাক্ষর নেন ঠিকই তবে বরাদ্দ পাই না। করোনা সংকটে জনদুর্ভোগ কমাতে পরিষদে আসা সরকারি বরাদ্দ চোখেই দেখিনি। কোন কথা বললেই অশ্রাব্য ভাষায় লোকজনের উপস্থিতিতে গালাগালি শুরু করেন চেয়ারম্যান। বয়স্ক ভাতা,বিধবা ভাতা,প্রতিবন্ধী ভাতা,মাতৃত্বকালীন ভাতা সহ যে কোন তালিকার ক্ষেত্রে ইউপি সদস্যদের মতামত নেওয়া হয় না। শুধু স্বাক্ষরটাই নেওয়া হয়। পুরুষ শাসিত এই সমাজে একজন পুরুষ ইউপি চেয়ারম্যানের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলে লাঞ্ছিত হওয়া ছাড়া আর কী পাওয়া যায়।

কান্না জড়িত কণ্ঠে এই নারী জনপ্রতিনিধি আরো বলেন, ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ কাগজে কলমে আমাদের নামে দেওয়া হয় ঠিকই কিন্তু দায়সারা কাজ করিয়ে বিল উঠিয়ে নেন চেয়ারম্যান। পরিষদে গেলে ইউপি সচিব বলে-পরিষদে আসছো কেন? পরিষদে কাজ কি?

প্রায় ৫ বছরে পরিষদ থেকে আদৌ কোন সম্মানী ভাতা পাইনি। পরিষদে নিয়মিত কোন মিটিং না হওয়ায় কিছু পকেট সদস্যদের নিয়ে ভাগ ভাটোয়ারায় ব্যস্ত থাকেন চেয়ারম্যান। এভাবে একটি ইউনিয়ন পরিষদ চলতে পারে না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার সুযোগ পেলে পরিষদের এই অসঙ্গতিগুলোও তুলে ধরতে চান কর্মীবান্ধব এই নারী নেত্রী। আর এজন্য তিনি ২৪ জানুয়ারি পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের বরাবর একটি আবেদন করার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।