প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক মানের কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত-প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১০:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥

দুই দিনের সফরে গিয়ে সাগরকন্যা কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকতের ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামিম। সফরের প্রথমদিন ২৯ আগস্ট থেকে তিনি কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, ঝাউবনসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা ও সমুদ্রসৈকতের ভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এছাড়া ওইসময়ে তিনি পটুয়াখালী জেলা, কলাপাড়া উপজেলা, কুয়াকাটা থানা ও পৌর আওয়মীলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি কুয়াকাটা প্রেসক্লাব পরিদর্শন ও প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করেন। ৩০ আগস্ট কুয়াকাটা থেকে ফেরার পথে শেখ হাসিনা সেনানিবাস সংলগ্ন ভাঙন কবলিত নদী তীরবর্তী এলাকাও পরিদর্শন করেন।

সমুদ্র সৈকতের ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামিম বলছেন, কুয়াকাটা ও কক্সবাজারে সরকারের একটি প্ল্যান রয়েছে। সেই প্ল্যান কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সেলক্ষ্যে ২ বছর আগে মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক নেদারল্যান্ডে গিয়েছিলো। নেদারল্যান্ড তাদের সী-বিচগুলো তীর রক্ষা করে যেভাবে তাদের জনগনের জন্য তৈরি করেছে, সেই প্রক্রিয়াটি দেখে এসেছেন তারা। বাংলাদেশে এসে সেই অনুযায়ী সমীক্ষা শেষ করা হয়েছে। এখন ডিপিপি প্রণয়ন হয়ে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে সেখান থেকে একনেকে যাবে। কক্সবাজার এবং কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সী-বিচ করার প্ল্যান আমাদের রয়েছে।
এসময় প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সমুদ্রতীর রক্ষায় এখানে (কুয়াকাটায়) একটা প্রকল্প চলমান রয়েছে। সেক্ষেত্রে ছোট খাটো ভাঙন রোধে কাজ করা হয়েছে, তবে স্থায়ী সমাধান নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ চলমান রয়েছে।

এসময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সমুদ্র তীর রক্ষায় কুয়াকাটায় কিছু জিও টিউব দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু সেই জিও টিউবগুলোতে দর্শনার্থীরা এসে বসেন এবং নানানভাবে ব্যবহার করে কেটে ফেলেন। যতদিন জিও টিউবগুলো ঠিক ছিলো, ততদিন তীর ভাঙেনি কিন্তু ছিদ্র হয়ে টিউবের ভেতরের বালু পরে যাওয়ার পর থেকে তীর আবার ভাঙছে। সাধারু জনগনেরও কিন্তু একটা দায়িত্ব আছে, শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলেই হবে না। গোটা বাংলাদেশকে সরকারের পক্ষে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে না, যতক্ষণ জনগণ সরকারের সাথে একসাথে মিলে কাজ না করবে। আমরা আহবান জানাবো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যাবে সমুদ্রতীরে ভাঙন না হয়, কিন্তু কেউ যেন জিওটিউব ছিদ্র করে না ফেলে। এভাবেই স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা সৈকতকে রক্ষা করবো।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে কক্সবাজার এবং কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের করার। তাই যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন প্রকল্পে বাঁধের উচ্চতা বাড়িয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় এলাকায় ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাহায্যে ৩ হাজার ২৮০ কোটি টাকার প্রকল্প চলছে, যেখানে ১৩৯ টি পোল্ডারের কাজ হচ্ছে। ১৩৯ টি পোল্ডারের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৭ টি প্লোডারের কাজ করার কথা ছিলো, কিন্তু জমি অধিগ্রহণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমরা ১০ টি পোল্ডারের কাজ করছি। বাকী ৭ টিসহ ২৯টি পোল্ডারের কাজ ভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আগামী ৫ বছরের মধ্যে শেষ করবো। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অনেক উপকৃত হবেন এবং আরো সুরক্ষিত হবেন। বন্যা-জলোচ্ছ্বাসে ক্ষয়ক্ষতি কমে আসবে।

Sharing is caring!