প্রতিবন্ধকতা জয় করে তারা হলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী

প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০

শফিক মুন্সি ::

মামাতো ফুফাতো দুই ভাই মানিক খলিফা (২৫) এবং মোঃ শাহিন (২৬)। বসবাস করেন বরিশাল নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডের কেডিসি নামক এলাকায়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তারা দুজনেই লড়াই করছেন শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সাথে। নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য হওয়ায় সমাজ কিংবা শিক্ষা সব জায়গা থেকে এক প্রকার দূরেই ছিলেন তারা। নিজেদেরকে পরিবারের বোঝা হিসেবে ভেবেই বড় হয়েছেন এই দুই ভাই। জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার তীব্র চেষ্টা করে যাওয়া এই যুবকদের পাশে দাঁড়িয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন।

অন্যদিকে বরিশাল নগরীর গোড়াচাঁদ দাস রোডের বাসিন্দা ইউনুস আলী (৫০)। তাঁর জীবনগাঁথা মানিক এবং শাহিনের চেয়েও হৃদয়বিদারক। পরিবারহীন ইউনুস বছর খানেক আগে বিয়ে করে হন সংসারী। বিবাহিত জীবন আলো করে মাস দুই আগে এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান আসে ইউনুসের কোলে। কিন্তু সন্তান হবার উনিশ দিনের মাথায় মারা যান ইউনুসের স্ত্রী। ছোট্ট শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়ে বর্তমানে উপার্জনহীন মধ্যবয়সী ইউনুস। কোথাও যেমন যাবার জায়গা নেই তেমনি শিশু সন্তানকে ফেলে কাজ খোঁজারও উপায় নেই তাঁর। ক্ষুধার তাড়নায় তাই সন্তানকে বুকে চেপে নেমে পড়েছিলেন ভিক্ষাবৃত্তিতে।

গত সপ্তাহে জেলা প্রশাসকের নিয়মিত গণশুনানিতে এই তিন ব্যক্তির জীবন সংগ্রামের গল্প চোখ ভেজায় উপস্থিত সকলকে। পরবর্তীতে প্রতিবন্ধী দুই ভাইয়ের মতো ইউনুসের পাশে দাঁড়িয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ অধিদফতর। তারা যেন উপার্জন করতে পারেন এজন্য গত বৃহস্পতিবার তাদের তিনজনকে তিনটি ভ্যান এবং ভ্যানে করে বিক্রি করবার মতো সবজি ও মূলধন হিসেবে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আল মামুন তালুকদার ,জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোঃ হোসেন চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ।
জীবন যুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা জয় করে তারা এখন হবেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার ইউনুসের শিশু কন্যাকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বড় করার দায়িত্ব নেয়া হয়েছে। গণশুনানিতে এই তিন ব্যক্তির কাহিনী সামনে আসার পর তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়ার দায়িত্ব পেয়েছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ। সরকারি এই কর্মকর্তা জানান, মধ্যবয়সী ইউনুস আগে দিনমজুরের কাজ করতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর পক্ষে এখন আর ভারী কাজ করা সম্ভব না। অন্যদিকে শারীরিক প্রতিবন্ধী দুই ভাই বেকার হয়ে বসে থাকতে থাকতে পরিবারের বোঝা হিসেবে মূল্যায়িত হতে থাকেন। তাই এই তিনজনের পক্ষেই করা সম্ভব এমন সহজ কাজ হিসেবে সবজি ও মৌসুমি ফলমূল ব্যবসার সঙ্গে তাদেরকে জড়িত করা হয়েছে।

এছাড়া, ইউনুস আলীর শিশু কন্যা যেন ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে সেজন্য প্রাথমিকভাবে ৭ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। একইসঙ্গে গতকাল শুক্রবার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে শিশুটির জন্য নতুন পোশাকাদি তুলে দেয়া হয়েছে অসহায় ইউনুসের হাতে। অন্যদিকে প্রতিবন্ধী ভাইদ্বয়কে ভ্যানগাড়ী, সবজি-ফলমূলের সঙ্গে নগদ ৬ হাজার টাকা করে মূলধন প্রদান করা হয়।

এ ব্যাপারে বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেন,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব- দুঃখী মানুষের জন্য দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিবন্ধকতা কাউকে যেন দমিয়ে দিতে না পারে সেজন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব মানবিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে এবং অসহায় মানুষদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস’।

Sharing is caring!