পুলিশ ফাঁড়ির জমি ফিরিয়ে নিলেন দাতা : প্রতিবাদে সন্ত্রাস নির্মূল কমিটির সভা

প্রকাশিত: ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ::

পুলিশ ফাঁড়ির জন্য বিক্রি করা ১৯ শতাংশ জমি ২৭ বছর পর পুনরায় ফিরিয়ে নিলেন দানকারী ব্যক্তি। আদালতের মাধ্যমে জমি ফিরে পেলেও তিনি ফিরিয়ে দেননি টাকা। এর প্রতিবাদে আলোচনা সভা করেছে সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের সারসী বিহঙ্গল সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি। শুক্রবার বিকাল ৫টায় সারসী বাজারে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কমিটির সভাপতি ও কাশিপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন, জাকির হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন, মোস্তফা হোসেন বেপারী, মনিরুজ্জামান ফোরকান প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘১৯৯৩ সর্বহারা-সন্ত্রাসীরা সারদী বিহঙ্গ মসজিদে এশার নামাজের সময় হামলা করে। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে সেখানে প্রাণ হারান সাহেদ। ওই ঘটনার পর পরই সন্ত্রাস এবং সর্বহারা নির্মূলে সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি গঠন করা হয়।

বক্তারা বলেন, ‘এই কমিটিকে সহায়তা করে তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ থানার কর্মকর্তারা। একই সাথে সন্ত্রাস নির্মূলে ওই এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি’র ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ। এজন্য স্থানীয় গিয়াস উদ্দিন দফাদার এর কাছ থেকে সাবকবলা দলিল দিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা তুলে ১৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তৎকালীন সময় ওই জমিটি কেনা হয় সন্ত্রাস বিরোধী কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিব দফাদারের নামে। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি’র মৃত্যুর পরে কমিটির সভাপতি হন ইউপি সদস্য মজিবর রহমান।

কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘পুলিশের জন্য ক্রয় করা ওই জমি’র মালিকানা ফিরে পেতে জমি’র দাতা আদালতে মামলা করেন। আদালতের মাধ্যমে তিনি পুনরায় জমি ফিরিয়ে নেন। এর প্রতিবাদ প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা দানের জমি ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানান। অন্যথায় আইনি প্রক্রিয়ায় জমির মালিকানা বুঝে নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয় সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি।

এ প্রসঙ্গে জমি’র দাতা গিয়াস উদ্দিন দফাদার বলেন, ‘সন্ত্রাসী নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিব দফাদার ছিলেন আমার বড় ভাই। তৎকালীন সময় তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে পুলিশ ফাঁড়ির জন্য আমার জমি লিখিয়ে নিয়েছে। এ জন্য আমাকে কোন টাকা দেয়নি। তবে পুলিশ ফাঁড়ি না হলে জমি ফিরিয়ে দেয়ার চুক্তি ছিলো। সেই চুক্তি অনুযায়ী আইনের সহায়তায় ২০১৭ সালে আমি আমার জমি বুঝে নিয়েছি। এখন কে কি বললো সেটা আমার দেখার বিষয় নয়।

Sharing is caring!