পুলিশের ভয়ে লুকিয়ে ছিলেন নারকেল গাছে, ধরা পড়লেন ঢাকার রাজপথে

প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯

বাংলামোটরে বিআইডব্লিউটিসির সহ-ব্যবস্থাপক (অর্থ) কৃষ্ণা রায়কে চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে গিয়েছিলেন বাস চালক মোরশেদ। সেই দিনই তিনি প্রথম ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ওই বাসটি চালানো শুরু করেছিলেন।কৃষ্ণা রায়কে বাস চাপা দেওয়ার পর এক মুহূর্তও দেরি না করে কিশোরগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে পালিয়ে যান চালক মোরশেদ। ঘটনার পরে বাস চালককে গ্রেপ্তার করতে আইনশৃখ্লা বাহিনীর একাধিক দল কাজ শুরু করে দেয়। পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) একটি দলও কাজ শুরু করে পলাতক বাস চালক মোরশেদকে গ্রেপ্তার করতে।

তদন্তে নেমে পিবিআই প্রথমে মোরশেদের কিশোরগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে তার অবস্থান শনাক্ত করে সেখানে অভিযানে যায়। কিন্তু সেদিনের অভিযানে মোরশেদকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে ঢাকায়। তবে গতকাল রাতে তাকে ঢাকার কাজীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। মোরশেদকে গ্রেপ্তারের পর পিবিআই জানতে পারে, যে রাতে তার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল ওই রাতে তিনি নিজ বাড়িতেই ছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভয়ে বাড়ির নারকেল গাছের মাথায় উঠে বসে ছিলেন মোরশেদ। তাই সেদিন তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

বাসচালক মোরশেদকে গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেওয়া পিবিআইয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।উপ-পরিদর্শক( এসআই)  মো. আল-আমিন শেখ দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘মামলার কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর পিবিআইয়ের  পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক মো. জুয়েল মিয়া এবং আমিসহ ৫ সদস্যের একটি  টিম আসামিকে গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করি। এই পাঁচ সদস্যের টিম কিশোরগঞ্জে আসামির বাড়িতেও অভিযানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সে ওই বাড়ির নারকেল গাছের মাথায় অন্ধকারে লুকিয়ে থাকায় তাকে খুঁজে পাইনি।  আমরা ওই গ্রাম থেকে আবার ঢাকায় চলে আসি।তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল রাতে ঢাকার কাজী পাড়ায় তার অবস্থান শনাক্ত করে সেখানে অভিযান চালিয়ে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

ঘটনা সম্পর্কে  পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ জানান, গত ২৭ আগস্ট দুপুরে এমএইচকে ভবনের পশ্চিম পার্শ্বের ফুটপাত দিয়ে হেঁটে কারওয়ান বাজারের দিকে ব্যাংকে যাচ্ছিলেন কৃষ্ণা রায়। এ সময় কারওয়ান বাজারের দিক থেকে বাংলামোটরের দিকে বেপরোয়া গতিতে আসা ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯১৪৫ বাসটি ফুটপাতের উপরে উঠে যায়। এতে তিনি  মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরবর্তীতে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হলে কৃষ্ণার বা পায়ের হাঁটুর  নিচের অংশ কেটে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় তার স্বামী রাধে শ্যাম চৌধুরী বাদী হয়ে ওই বাসের চালক মোরশেদ এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পরে হাতিরঝিল থানা পুলিশ বাসটি আটক করে। তবে বাস চালক ঘটনার পরেই পালিয়ে গিয়েছিলেন৷  বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হওয়ায় সারা দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের নির্দেশে একটি টিম কিশোরগঞ্জসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।অবশেষে গুপ্তচর ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে গতকাল রাতে কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পলাতক প্রধান আসামি বাসচালক মোরশেদকে গ্রেপ্তার  করা হয়।গ্রেপ্তার হওয়া আসামি ড্রাইভার মোরশেদকে হাতিরঝিল থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা।

Sharing is caring!