পার্বত্য শান্তিচুক্তি দিবস আজ : আ’লীগের কর্মসূচি গ্রহণ

প্রকাশিত: ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি দিবস। ১৯৯৭ সালের এই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি পাহাড়ীদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় শান্তিচুক্তি সম্পাদিত করেছিলেন তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকার। সে দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র উপস্থিতিতে সরকারের পক্ষে সাবেক চীফ হুইপ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের প্রতিনিধি জনসংহতি সমিতির নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা শান্তি চুক্তিতে সাক্ষর করেছিলেন। এর পর থেকেই পার্বত্য অঞ্চলে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করে। শান্তি প্রতিষ্ঠার গত ২৩ বছরে পাহারী আদিবাসীদের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়ন করে চলেছেন বর্তমান সরকার।

এদিকে, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পর থেকেই প্রতি বছর ২ ডিসেম্বর এই দিনটি ‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পার্বত্য শান্তিচুক্তি দিবস পালনে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ।

তাদের গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ২ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নগরীর সদর রোডস্থ সোহেল চত্বরে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর সকাল ৯টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও বিকাল ৩টায় আলোচনা সভা এবং মিলাদ মাহফিল করবে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ।

ইতিহাস থেকে জানাগেছে, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ১১ সদস্যের একটি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি গঠন করে সরকার। যে কমিটিতে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যবৃন্দকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ এবং বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির মন্ত্রী পদমর্যাদায় আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি।
এ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আতাউর রহমান খান কায়ছার, কল্প রঞ্জন চাকমা, দীপংকর তালুকদার, বীর বাহাদুর, সৈয়দ ওয়াদিুল আলম, জয়দুল আবদীন ফারুক, এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া এবং মো. শাহজাহান চৌধুরী।

তখনকার সময়ে পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র গ্রুপ শান্তি বাহিনী নামে বেশ কিছু সংগঠন থাকলেও তার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ছিল অন্যতম। মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার ছোট ভাই জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা, সুধাসিদ্ধু খীশা, রূপায়ন দেওয়ান ও গৌতম চাকমা ছিলেন ওই সমিতির অন্যতম নেতা।