পান-সিগারেটের দামে চামড়া কিনছেন বরিশালের পাইকাররা

প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অজানা শঙ্কার মধ্যেই বরিশালে চামড়া ক্রয় শুরু করেন পাইকারী চামড়া বিক্রেতারা। বিগত বছরের তুলনায় ৫০ টাকা বাড়ানো হয় প্রতি পিস গরুর চামড়া। কিন্তু ছাগলের চামড়া ক্রয় করা হয় পান-সিগারেটের দামে কিংবা ফ্রিতে। নগরীর পদ্মাবতী ট্যানারী শিল্প এলাকা ঘুরে এমন তথ্যই পাওয়া যায়।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শনিবার (১ আগস্ট) ঈদের দিন সকাল থেকেই মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের নিয়ে আসা চামড়া খরিদ শুরু করেন পাইকাররা।
জানা গেছে, গত বছর ঈদ-উল-আযহায় গরুর চামড়া ১৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় ক্রয় করা হতো। এ বছর ৫০ টাকা দাম বাড়ানোয় ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায় গরুর চামড়া ক্রয় করেছেন পাইকাররা। তবে ছাগলের চামড়ার নির্ধারিত কোন দাম দিচ্ছে না পাইকাররা। বিনিময়ে কেউ চা-সিগারেটের টাকা দিচ্ছে, আবার কেউ মনে চাইলে ফেলে রেখে দিয়ে যেতে বলছে।

মৌসুমী চামড়া বিক্রেতা সাহাবুদ্দিন খলিফা বলেন, বাকেরগঞ্জ থেকে চামড়া নিয়ে আসছি। গরুর চাড়মার যা দাম পেয়েছি, ছাগলের চামড়ার কোন দামই দিলো না। ছাগলের চামড়া দিলে ১০ টাকা ২০ টাকা দিয়ে বলে, ‘নে পান-সিগারেট খাইস।

’পদ্মাবতীর পাইকারী চামড়া ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা ২০০ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩০০ টাকা দরে গরুর চামড়া কিনছি। এর চেয়ে বেশি দামে কেনা সম্ভব না।

এই ব্যবসায়ী দাবী করেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর চামড়ার দাম অনেক বেশি। গত বছর চামড়া প্রতি আমরা ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা প্রদান করেছি। যা এবছর অনেক বেড়ে গেছে। তাছাড়া গত বছর সবচেয়ে ভালো চামড়া প্রতি আমরা দিয়েছি ৩০০ টাকা। যা এবছর বেড়ে ৩৫০ টাকা হয়েছে। সব মিলিয়ে চামড়ার দাম কিছুটা হলেও বাড়তি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই চামড়ার পেছনে আমাদের আরও দুই থেকে আড়াাইশ টাকা খরচ রয়েছে। এর চেয়ে বেশি দাম দিয়ে কিনলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
এদিকে, মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা পাইকারী চামড়া ব্যবসায়ীদের দাম দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, এলাকা থেকেই আমরা বড় গরুর চামড়া বেশি টাকা করে কিনেছি। এখানে তারা যে দাম বলছেন এতে করে আমাদের মুনাফাও থাকবে না।

বরিশাল চামড়া ব্যবাসীয় মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুর রহমান শাহিন বলেন, ট্যানারি মালিক বা ব্যবসায়ীদের কাছে বরিশালের চামড়া ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে আছে। প্রতিবছর কোরবানির পূর্বে কিছু টাকা ট্যানারি ব্যবসায়ীরা দিলেও এবারে খালি হাতেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাই নতুন করে দেনাগ্রস্থ হতে রাজি হননি অনেকেই। এজন্য তিনিসহ বহু ব্যবসায়ী এবার চামড়া কেনা থেকে বিরত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বরিশালে ২০/২২ জন চামড়ার পাইকার ব্যবসায়ী ছিলেন। যারা স্থানীয়ভাবে চামড়া সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাতেন। কিন্তু দিনে দিনে চামড়ার দর পতন অব্যাহত থাকায় এবং ট্যানারি মালিকদের কাছে টাকা আটকে যাওয়ায় বর্তমানে চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ্যা পাঁচ এর নিচে। এবার মাত্র দুই তিনজন চামড়া সংগ্রহ করেছেন। ফলে সবদিক থেকে স্থানীয় বাজার থেকে আমাদের চামড়া সংগ্রহের পরিমাণ কমে গেছে।

Sharing is caring!