পানির সমস্যা নিয়ে ভাটির দেশের মানুষের বেঁচে থাকতে হবে- বরিশালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১১:৪৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম-এমপি বলেছেন, আমরা ভাটির দেশের মানুষ, আমাদের উজানে ভারত, নেপাত, ভূটান, চীন অবস্থিত। উজানের দেশ থেকে বৃষ্টির পানি ভাটিতে এসে বঙ্গোপসাগরে চলে যায়। সেখান থেকে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দুই বিলিয়ন মেট্রিকটন পলি মাটি আমাদের দেশে আসছে। এর ফলে আমাদের নদীর নাব্যতা নষ্ট হচ্ছে। ড্রেজিং করলে ৬ মাসের মধ্যে নদীগুলো আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।

শনিবার (২২ আগষ্ট) বিকালে বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকায় বধ্যভূমি সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী ও বেড়িবাঁধ পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টি ও নদীর তীর ভাঙছে। যার জন্য বর্ষার সময় প্রচুর বৃষ্টি হলে পানিগুলো দুকূল ছাপিয়ে গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী ডেল্টা প্ল্যান ২১ এর আঙ্গিকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বড় বড় নদী যেগুলো ৯-১২ কিলোমিটার প্রস্থ সেগুলোকে আমরা ছোট করে ৫-৭ কিলোমিটারের ভেতরে নিয়ে আসবো। তারপর ড্রেজিং করে তার মাটি দিয়েদুই পারের জমি রিক্লেম করবো। সেখানে আমরা ফসল উৎপাদন করবো এবং কিছু কিছু জায়গাতে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল প্লট দেয়া হবে। সেখানে শিল্প কারখানা হবে, এলাকার লোকজনদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। কিন্তু সেময় এলাকাতে আমরা কোন বসতি গড়তে দিবো না। আর সেখানে নির্ধারিত জয়গাতে বাঁধ দিয়ে বনায়নও করা হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ড্রেজিং করে নদীর প্রস্থ যদি কমিয়ে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আমরা সেগুলোতে নিয়মিত খনন কাজ চালিয়ে যেতে পারবো। তাহলে এখনকার মতো বন্যা হবে না। তবে মনে রাখতে হবে, আমরা ভাটির দেশের মানুষ। জলাবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের ভাটির দেশে এ ধরনের পানি আসতে হবে এবং এটা নিয়ে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।
জাহিদ ফারুক শমীম বলেন, ‘সাতক্ষীরায় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতে আমরা চারটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। তিনটি এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে চলে গিয়েছে। যার মধ্যে পোল্ডার নম্বর ১৪ তে ৯৩৭ কোটি, পোল্ডার নম্বর ১৫ তে ৯৯৭ কোটি এবং পোল্ডার নম্বর ৩১ এ ১২ শত কোটি টাকা খরচ হবে। এছাড়া পোল্ডার নম্বর ৫ এ ৩ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের চিন্তা আমাদের রয়েছে, যাও পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। এগুলো হলে সাতক্ষীরা এলাকার লোকজনের দুঃখ দুর্দশা লাঘব হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নদী তীরে সাধারণ যে বাঁধ তৈরি হয় তাতে দেড় কোটি টাকা খরচ হয়। আর ব্লক দিয়ে করলে ত্রিশ কোটি টাকা খরচ হয়। তাও ছোট নদীতে। বড় নদীতে ব্লক দিয়ে একই পরিমাণ বাঁধ নির্মাণ করতে ৭০ কোটি টাকা খরচ হয়। এতে বিশাল অংকের টাকার প্রয়োজন। তার পাও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী হওয়ায় আমরা এসব কাজ করতে সাহস পাচ্ছি। সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। আর মনে রাখতে হবে একটা প্রকল্পের চিন্তা করলেই হবে না, তা বাস্তবায়ন হতে ৬ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে অবস্থানটা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। জনগণের দুঃখ কমে আসবে।
উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়াতে নদী তীর রক্ষার কাজ করা হচ্ছে। চরকাউয়ার জন্যও প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। বরিশাল শহরে জলাবদ্ধতা বন্ধ করার জন্য একটি প্রকল্প তাড়াতাড়ি দেয়ার জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। যে পাঁচটি খাল দিয়ে নদীর পানি শহরের ভেতরে প্রবেশ করে সেগুলোকে পুনঃখনন করতে হবে। স্লুইজ গেট দেয়া হবে, যাতে পানি শহরের মধ্যে ঢুকতে না পারে। কিন্তু শহর থেকে পানি বের হতে পারে। এছাড়া ফ্লাড ওয়াল উঁচু করে দেয়া হবে যাতে জোয়ারের সময় পানি এসে শহরে না ঢুকতে পারে। এটা হলে বরিশাল শহর নদীর পানিতে প্লাবিত হবে না। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে বরিশালবাসীকে একটি সুন্দর শহর উপহার দিতে পারবো।
এদিকে নগরীর ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে পশ্চিম রূপাতলী এলাকায় নদীর ভাঙন পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী। এর আগে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্দুরকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে সৃষ্ট বনায়ন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম-এমপি।
এসময় তার সাথে ছিলেন বরিশালের জেলার প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শফিউদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক চন্দ্র দাস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মাহামুদুল হক খান মামুন, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেন প্রমুখ।

Sharing is caring!