পাকিস্তানের নাগরিক হতে চান ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যামি

প্রকাশিত: ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০

নিরাপত্তাজনিত কারণে এখনও পাকিস্তান যেতে চান না বিশ্বের অনেক ক্রিকেটার। উদাহরণ খুঁজতে বেশি দূরে যেতে হবে না। পুরো বাংলাদেশ দল পাকিস্তানে গিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ও এক টেস্ট খেলে আসলেও, পরিবারের অনুমতি না থাকায় যাননি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম।

শুধু মুশফিক একাই নন, জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের বড় অংশও নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন পাকিস্তান সফর থেকে। এর আগে প্রায় দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে পাকিস্তান গিয়ে খেলেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। যেখানে ছিলেন না অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ, দীনেশ চান্দিমাল, থিসারা পেরেরাদের মত তারকা ক্রিকেটাররা।

সবমিলিয়ে প্রায় পাঁচ বছর ধরে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরলেও, এখনও সব দেশের সকল ক্রিকেটারদের জন্য অভয়ারণ্য হতে পারেনি দেশটি। এখনও সে দেশে যাওয়ার আগে অনেকবার ভাবতে হয় সব দেশকে। এমতাবস্থায় ব্যতিক্রমই বলতে হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার ড্যারেন স্যামিকে।

সবাই যেখানে পাকিস্তানকে এখনও আপন করে নিতে পারেনি, সে দেশে সফর করতেও ভাবে কয়েকবার- সেখানে সরাসরি পাকিস্তানের নাগরিক হতে চাইছেন স্যামি। তার এ আগ্রহের কথা নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) দল পেশোয়ার জালমির মালিক জাভেদ আফ্রিদি।

শুধু তাই নয়, স্যামির ইচ্ছা অনুযায়ী এরই মধ্যে সম্মানসূচক নাগরিকত্বের আবেদনও করা হয়েছে পেশোয়ার জালমির পক্ষ থেকে। তাদের এ আবেদন এখন রয়েছে রাষ্ট্রপতির টেবিলে। অনুমোদন পেয়ে গেলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাশাপাশি পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবেও বিবেচিত হবেন স্যামি।

জাভেদ আফ্রিদি এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা ড্যারেন স্যামির জন্য পাকিস্তানের সম্মানসূচক নাগরিকত্বের আবেদন করেছি। এটি আপাতত রাষ্ট্রপতির টেবিলে রয়েছে। আমি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবো স্যামির জন্য সুপারিশ করতে, যাতে এটি অনুমোদন পেয়ে যায়। পাকিস্তানের জন্য বরাবরই স্যামির ভালোবাসা ও মমত্ববোধের নজির দেখা গিয়েছে।’

বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে পাকিস্তান সুপার লিগের পঞ্চম আসর। প্রথমবারের মতো পুরো পিএসএলের সবগুলো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হচ্ছে পাকিস্তানে। এ টুর্নামেন্টে খেলতে এরই মধ্যে অন্তত ৩৬ জন বিদেশি ক্রিকেটার পা রেখেছেন পাকিস্তানে। এদের মধ্যে সবার আগে সেই দেশে পৌঁছেছেন স্যামি।

তিনি বলেন, ‘আমি চাই পিএসএলের এবারের আসরটি সবচেয়ে সেরা। যাতে করে ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সবার কাছে বার্তা পৌঁছানো যায় যে, এখানে (পাকিস্তান) ক্রিকেট খেলা কতটা দারুণ। এখানে আসা সত্যিই ভালো লাগার বিষয়। আমিই সবার আগে এসেছি। পুরো টুর্নামেন্ট পাকিস্তানে হবে। আমি সত্যিই এ বিষয়ে উত্তেজিত।’

Sharing is caring!