পাওনা আদায়ে মারধরের ভিডিও : কলাপাড়ায় কথিত অপহৃত যুবক উদ্ধার

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ কথিত অপহৃত রায়হানকে ছয় দিন পর আলীপুর সøুইস এলাকা থেকে পুলিশ বুধবার সকালে উদ্ধার করেছে। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, সকাল সাড়ে আট টায় রায়হানকে উদ্ধার করেন। থানায় মামলা দায়েরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রায়হানকে তারা উদ্ধারে সক্ষম হয়েছেন। রায়হান জানান, লেম্বুরচর বন এলাকা থেকে একটি বালুবাহী ট্রলারে ফিরছিলেন। বুধবার বিকেলে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এরা সবাই মাদকসেবী বিক্রেতা ও কারবারি। প্রত্যেকে চুরিসহ মাদকের একাধিক মামলার আসামি।

 

গত বৃহস্পতিবার সকালে মহিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার খবর ছিল মিথ্যা। মূলত রায়হান, ইমাম ও মাহিম একই মোটরসাইকেলযোগে আলীপুরের ফাসিপাড়ায় যান। সেখানে রাখাইন পল্লীতে গিয়ে মাদক সেবন করেন। এছাড়া রায়হানের কাছে এর আগে ইয়াবা বিক্রির পাওনা ত্রিশ হাজার টাকা চান ইমাম। যা না দেয়ায় পুরনো জাল দিয়ে রশি বানিয়ে রায়হানকে বেধে ইমাম ও রাজা মারধর করেন। আর মাহিম ভিডিও করেন। ফের একত্রে মাদক সেবন করেন। শেষে মোটরসাইকেল ভাড়া করে রায়হানকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। রায়হানের গেঞ্জি ছিঁড়ে যাওয়ায় ইমামের গেঞ্জি দেয়া হয়। এরপর আত্মগোপনে যান রায়হান। এরপরও বাকিসব ঘটনা উদ্ধারের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে রায়হানকে। পুলিশ এর আগে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই আসামি ইউসুফ ঘরামি ও ইলিয়াসকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের কথিতমতে উদ্ধার করে লুকিয়ে রাখা ১০লিটার চোলাই মদ এবং ৫৭৫ লিটার মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করেছে।

 

মাদক এবং তৈরির এই উপকরণ ড্রাম ও কন্টিনারও মাটির নিচে রাখা হয়েছিল। রায়হানকে উদ্ধারের মধ্য দিয়ে অবশেষে কলাপাড়ায় রহস্য বের হলো রায়হানকে মারধরের ভিডিও কাহিনী। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, রায়হানসহ তার বাবার দায়ের করা মামলার অধিকাংশ আসামি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ নিয়ে এই ঘটনা সাজানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।