পাঁচ জেলার জমিদার দাবিদার সামাদের অফিসে প্রশাসনের তালা

প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২০

বার্তা ডেস্ক ॥ বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর ও বরগুনা এ পাঁচ জেলার সকল জমি নিজের জমিদারির এবং তার মালিক দাবি করে স্বঘোষিত জমিদার আ. সামাদ হাওলাদারের স্থাপন করা সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের সাইনবোর্ড অপসারণ ও অফিস তালাবদ্ধ করেছেন শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন। গত ২৬ আগস্ট দুপুরে সাইনবোর্ড অপসারণ ও অফিসে তালা লাগানো হয়।

স্বঘোষিত জমিদার আ. সামাদ হাওলাদার মোরেলগঞ্জ উপজেলার পিসি বারইখালী গ্রামের মৃত আকবর আলী হাওলাদারের ছেলে।

আ. সামাদ দাবি করে বলেন, ১৯২৮ সালের প্রাদেশিক সরকারের ৮ বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী এস.এ (চলমান) ও বি.আর.এস (সংশোধনী) প্রাদেশিক সরকারের খাস রেকর্ড অনুযায়ী কবলা সূত্রে তিনি সুন্দরবন লর্ড চিরস্থায়ী প্রজাস্বত্ব এস্টেটের মালিক এব্যপারে আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। এছাড়া ১৯৫৬ সালের সংশোধনী গেজেট অনুযায়ী বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার সকল জমির মালিকানা সুন্দরবন লড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের বলে তিনি দাবি করেন। এই সূত্রে তিনি পিসি বারইখালি গ্রামের নিজ বাড়িতে জমিদারির সদর দপ্তর স্থাপন করে কয়েক বছর ধরে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তার ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট সকালে শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকায় একটি অফিস ভাড়া নিয়ে সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। এর আগে এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নতুন করে জমি বন্দোবস্ত নেওয়া, নতুন খতিয়ান খুলে খাজনা দিয়ে দাখিলা ও জমির পর্চা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

 

উত্তর রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহআলম হাওলাদার জানান, ইতিমধ্যে শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জে বেশ কিছু লোক নিয়োগ দিয়ে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে স্বঘোষিত জমিদার আ. সামাদ হাওলাদার লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

শরণখোলার উত্তর রাজাপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন খান জানান, জমিদার দাবিদার আ. সামাদের লোকজন উত্তর রাজাপুর গ্রামের পান্না ঘরামী ও মতিয়ার হাওলাদারের জমি চাষে বাঁধা প্রদান করেছে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু জানান, আ. সামাদের পিতা আগে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার ছেলে এখন নিজেকে জমিদার দাবি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ বাণিজ্য শুরু করেছেন।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, বাংলাদেশে এখন আর কোনো জমিদারি প্রথা নেই সকল জমির মালিক সরকার। তথাকথিত সুন্দরবন লর্ড প্রজাস্বত্ব এস্টেটের নামে কার্যক্রম চালানো রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। খবর পেয়ে তাদের অফিস বন্ধ করে সাইনবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Sharing is caring!