পরীক্ষার জন্য চীনের টিকা প্রয়োগ হবে বাংলাদেশের ২১০০ জনের ওপর


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১২:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২০

বার্তা ডেস্ক ॥ বাংলাদেশে চীনের সিনোভেক কোম্পানির তৈরি নতুন করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল) নৈতিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এই পরীক্ষা চালাবে। এ সংস্থার পেশ করা প্রটোকলের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার এই অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশের সাতটি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এ টিকার পরীক্ষা চলবে।

মোট ২ হাজার ১০০ জনের ওপর এই টিকা প্রয়োগ করা হবে।

বিএমআরসির পরিচালক মাহমুদ উজ জাহান বলেন, ‘চীনের সিনোভেক রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড কোম্পানির তৈরি টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার জন্য আইসিডিডিআরবি আমাদের কাছে প্রটোকল জমা দিয়েছিলে। ন্যাশনাল রিসার্চ এথিকস কমিটি নৈতিক অনুমোদন দিয়েছে। কমিটি এর নৈতিক অনুমোদন দিয়েছে। এখন তারা যেসব প্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষা করবে, তাদের প্রশাসনিক অনুমোদন নেবে।’

মাহমুদ উজ জাহান জানান, বিএমআরসির কাছে আইসিডিডিআরবির পক্ষ থেকে যে প্রটোকল দেওয়া হয়েছে, তাতে ৪ হাজার ২০০ জনের ওপর এটি প্রয়োগ করা হবে।
ডা. জাহান বলেন, তবে ৪ হাজার ২০০ জন টিকা পাবেন না। এঁদের মধ্যে অর্ধেক টিকা পাবেন, অর্ধেক পাবেন না। এটাই গবেষণার নিয়ম।
Lifebuoy Soap

আইসিডিডিআরবি দেশের সাতটি হাসপাতালে টিকা পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে অনুমোদন চেয়েছে বলে জানান বিএমআরসির পরিচালক। অধিদপ্তর অনুমোদন দিলে এসব হাসপাতালে পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানান বিএমআরসির পরিচালক।

মাহমুদ উজ জাহান জানান, যে সাতটি প্রতিষ্ঠানে টিকার পরীক্ষা হবে সেগুলো হলো মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিট-১, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইউনিট-২ এবং ঢাকা মহানগর হাসপাতাল।

প্রায় এক মাস আগে বিএমআরসির কাছে প্রটোকল জমা দেয় আইসিডিডিআরবি।

সারা বিশ্বে করোনার টিকা বানাতে এখন অন্তত ১৬০টি উদ্যোগ চালু আছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি টিকার তৃতীয় ধাপে আছে। সিনোভেকের এ টিকার পাশে তৃতীয় ধাপে আছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা।

চীনা টিকা:

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়েছিল গত ডিসেম্বরে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্থানীয় কার্যালয় নতুন ভাইরাসের বিষয়ে ঘোষণা দেয় ৩১ ডিসেম্বর। ধারণা করা হয়, ভাইরাস প্রতিরোধে চীন শুরু থেকে যেসব উদ্যোগ নিয়েছিল, তার মধ্যে টিকা উদ্ভাবনের প্রচেষ্টাও ছিল। সিনোভেক বায়োটেক এ ক্ষেত্রে এগিয়ে। সিনোভেকের টিকার সম্ভাব্য নাম ‘করোনাভেক’।
টিকা ও ওষুধ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষায় মানুষের জন্য টিকা কতটা নিরাপদ, তা দেখা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় টিকা নির্দিষ্ট জীবাণু প্রতিরোধে কতটা কার্যকর, তা দেখা হয়। তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় দেখা হয় টিকা কতটা নিরাপদ, কতটা কার্যকর।