ঢাকা থেকে ফিরতি পথে লাশ হলো কিশোর, কারণ অজ্ঞাত

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০২০

শফিক মুন্সি ::

 

ঢাকা – বরিশাল নৌ রুটের যাত্রীবাহী এমভি সুন্দরবন-১১ লঞ্চের ছাদ থেকে মঙ্গলবার উদ্ধার করা হয় এক কিশোরের রক্তাক্ত লাশ। নিহত কিশোরের নাম মোঃ শামীম তালুকদার (১৭)। সে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কুশঙ্গল ইউনিয়নের কলানিধি গ্রামের মোঃ খালেক হাওলাদারের ছেলে। রাজধানী ঢাকার নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি চামড়া শিল্প (বেল্ট) কারখানায় কর্মরত ছিলো সে। তবে এ ঘটনার রহস্য এখনো সমাধান করতে পারে নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বরিশাল সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, লাশের পাশে নিহতের সহকর্মী রিপন নামক একজনের পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। ওই পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে সিআইডি পুলিশ লাশের পরিচয় উদ্ধার করেছে। রিপন ও শামীম নারায়গঞ্জে একটি বেল্ট কারখানায় চাকরি করত।

রিপনের বক্তব্যের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মামুন জানান, বাড়িতে যাওয়ার জন্য নিহত শামীম সহকর্মী রিপনের কাছ থেকে সোমবার ব্যাগটি নিয়েছে। ওই ব্যাগের মধ্যে রিপনের পরিচয়পত্র ছিল। রিপন পুলিশকে জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় শামীম ঢাকা থেকে লঞ্চে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকালে লঞ্চটি বরিশালে পৌঁছালে এর তিন তলার ছাদে ধোঁয়া নির্গমনের চিমনির পাশ থেকে শামীমের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। বরিশাল নৌ পুলিশের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহতের পেটের নাড়িভুরি বের হয়ে গেছে।

লঞ্চটির তত্ত্বাবধায়ক মো. সিরাজ জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে মঙ্গলবার সকালে লঞ্চটি বরিশাল এসে পৌঁছায়। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর কর্মচারীরা লঞ্চ পরিষ্কার করতে গেলে তিন তলার ছাদে ধোঁয়া নির্গমনের চিমনির আড়ালে ওই কিশোরের লাশ পাওয়া যায়। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

 

তবে কি কারণে এমন হত্যাকা- সংঘটিত হলো সে ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কিছু জানা যায় নি। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে জানান, যুবকের নিহত হবার রহস্য এখনো উদঘাটন করা যায় নি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

 

এদিকে পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শৈশবেই শামীমের বাবা – মা’র বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকে পার্শ্ববর্তী কোকিলা গ্রামে অবস্থিত নানা বাড়িতে মামার কাছে বড় হয় সে। এবছর (২০২০) এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাকরি করতে যায় শামীম। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কলানিধি গ্রামের পৈত্রিক ভিটায় দাফন হয় কিশোর শামীমের।

নিহত শামীমের মামা নয়ন খান জানান, এবছর এসএসসিতে জিপিএ ৩.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল শামীম। গত দুইমাস যাবৎ চাকরিসূত্রে ফতুল্লায় অবস্থান করছিল সে। সেখান থেকে বাড়িতে বেড়াতে আসার পথে খুনের শিকার হয়েছে শামীম- এমনটাই দাবি নয়নের। বর্তমানে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে সহায়তা করতে নিজ গ্রাম থেকে ফতুল্লায় গিয়েছেন তিনি (নয়ন)।