পটুয়াখালীতে হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর : দুই কর্মকর্তা লাঞ্ছিত

প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পটুয়াখালীর দুমকিতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে হামলা চালিয়ে কর্মকর্তাদের মারধর, আসবাবপত্র, ল্যাপটপ, সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৭ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে এ সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বরখাস্তকৃত নার্স মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল ও তার স্ত্রী যুথিকা মন্ডলকে চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য স্থানীয় আ’লীগের তরফ থেকে বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চাপ দেয়া হচ্ছিল। বুধবার এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বোর্ড মিটিং চলছিল। বোর্ড মিটিং চলাকালে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী লুথ্যারান হাসপাতালের অফিস কক্ষে জোরপূর্বক ঢুকে বরখাস্তকৃত নার্সদেরকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়নি কেনো?- এ প্রশ্ন করে পরিচালক সাগর রোজারিও ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডেভিড ঘোষকে মারধর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর-তছনছ করে।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার পূর্বেই হামলাকারীরা হাসপাতাল ত্যাগ করে।

হামলা ও মারধরের শিকার সাগর রোজারিও বলেন, আমরা এখানে চাকরি করতে এসেছি। নিয়ম-কানুন ঠিক রেখে হাসপাতাল পরিচালনার মাধ্যমে এখানে মানুষদের সেবা করছি। হাসপাতালের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে অন্যায়ভাবে আমাদের হেনস্থা করা হলো। বেআইনি কাজ করতে রাজি না হওয়ায় ক্যাডার বাহিনী হামলা-ভাঙচুর করলো।

তিনি জানান, আসলে হাসপাতালটি ওই ক্যাডার বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এমন বেআইনি হামলার ঘটনার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে ডেভিড ঘোষ বলেন, হামলাকারীরা যতই শক্তিশালী হোক তারা কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আমরা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

হামলা-ভাঙচুর ও কর্মকর্তাদের মারধরের বিষয়ে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কাউকে মারধর কিংবা ভাঙচুর করা হয়নি। নার্স যুথিকা মন্ডলকে কেনো চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তা জিজ্ঞাসা করেছি মাত্র।

দুমকি থানার ওসি (তদন্ত) মো. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।