পটুয়াখালীতে সুদে জড়িয়ে সাধারণ মানুষ হারাচ্ছে ভিটে মাটি-প্রাণ

প্রকাশিত: ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

মোঃমেহেদী হাসান(বাচ্চু)পটুয়াখালী ::

পটুয়াখালীর ৮টি উপজেলায় কারেন্ট সুদে জড়িয়ে মানুষ ফতুর, যাচ্ছে প্রাণ! পালাচ্ছে মানুষ। সুদখোরদের নির্মম নির্যাতনে মানুষ এখন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে। এটা এখন এ জেলায় সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অত্যাচারে শেষ সাধারণ মানুষ এখন সব হারিয়ে নিঃস্ব। অবস্থাটা এমন, যেন সব কিছুই সুদে কারবারিদের হাতে জিম্মি। সুবিচার না পাওয়া অসহায় মানুষ গুলো এখন আর বিচার চায় না।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বড় আক্ষেপের সাথে এমনটাই জানালেন সদর উপজেলার সুদের দায়ে সব হারানো হানিফ শিকদার (৪০)। বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে জানান, জীবিকার তাগিদে তিনি বেশ কয়েক জনের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা সুদে নেন। এক বছরে ওই টাকার ৩-৪ গুন টাকা দিলেও এখনও তাদের টাকা পরিশোধ হয়নি। বর্তমানে সুদে কারবারিরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অত্যাচার নির্যাতন করছে।

এমনকি এই করোনা মহামারির মধ্যেও টাকার জন্য চাপ দেয়ায় ভিটে মাটি বিক্রি করে তাদের টাকা দিয়েছি, এখন আমি কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না। যার প্রেক্ষিতে তার ভিটে মাটি বিক্রি করে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এছাড়া মির্জাগঞ্জ, দুমকী, দশমিনা, গলাচিপা, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী উপজেলায় এদের ভয়াবহ অত্যাচার দিন দিন বেড়েই চলছে। অনেকেই তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন আপনি আজ নিউজ করলে কাল আমার বাড়িতে হামলা করবে তখন আমি কি করবো । যারা সুদের ব্যবসা করে তারা ক্ষমতাশালী লোকজনের ছত্রছায়ায় চলে বিধায় তাদের কেউ কিছু বলে না, যে সুদে টাকা নেয় তারা দুর্বল হওয়ায় অত্যাচারের কোনো সীমা থাকে না।

সদর উপজেলার পশরবুনিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী হালিম খান জানান, তিনি পটুয়াখালী সেন্টার পাড়া কালীবাড়ি রোডে টেইলার্স এর ব্যবসা করতেন, ঐ এলাকার জনৈক এক সুদি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা সুদে নেন। সেই বাবদ জমি দোকান বিক্রি করে সুদারুকে ৮ লাখ টাকা দিয়ে পথে বসে যাওয়ার পরও সে আরও ৪ লাখ টাকা দাবি করে। এর পর তিনি অন্যের দোকানে কাজ করে তা পরিশোধ করেন। আরেক ভুক্তভোগী জানান, এর আগে সুদেকারবারিদের অত্যাচারে বহুলোক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। প্রশাসনের লোকজনের সাথে ঘনিষ্ঠতা থাকায় এদের কেউ কিছু বলে না।

এছাড়া লাউকাঠি ইউনিয়নের মনোরঞ্জন দাস নামের এক ব্যবসায়ী সুদের টাকার অত্যাচার সইতে না পেরে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তিনিও সেন্টার পাড়া এলাকায় ব্যবসা করতেন। সুদি কারবারিদের অত্যাচারের স্টীমরোলারের চাপ সইতে না পেরে বাপ-দাদার ভিটে-মাটি ফেলে পালিয়েছে সদরের বহু মানুষ। তাছাড়া বহু মানুষের ভিটেমাটি জোর পূর্বক লিখে নিয়েছে সুদখোররা। পটুয়াখালী সদরের পুরাণ বাজার,কাঠপট্টি,শিমুল বাগ, সেন্টার পাড়া,আদালত পাড়া, চড়পাড়া সহ এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে এদের আধিপত্য নেই।

তবে পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লতিফা জান্নাতি জানান, বর্তমান পেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহীনি তদন্ত করছে। এছাড়া সরকারী অনুমোদন ছাড়া কেউ অবৈধ ভাবে অর্থলগ্নি ব্যবসা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।

Sharing is caring!