পটুয়াখালীতে ছেলেকে হত্যার অভিযোগে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ১০:২৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সংসারে উপার্জনের একমাত্র সম্বল ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পটুয়াখালীর বাসিন্দা সন্তান হারা কামরুন্নাহার নামের এক মা। প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাকে প্রেমিকার পরিবারের লোকেরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ তার।  সোমবার শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

এর আগে গত ১১ নভেম্বর পটুয়াখালী জেলার বড়বিঘাই ইউনিয়নের নুরুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে তানভীর রহমান (২১) এর মরদেহ পৌর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া এলাকার এবিএম শহীন ফেরদৌস এর বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তানভীর কামরুন্নাহার ও প্যারালাইজড বাবা নুরুল ইসলাম মাস্টারে সন্তান।
তানভীর রহমানের সাথে শাহীন ফেরদৌস এর মেয়ে স্থানীয় সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মারিয়া (১৯) এর প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে দাবি নিহতের পরিবারের।

 

লিখিত বক্তব্যে নিহতের মা কামরুন্নাহার বলেন, ‘তানভীর ঢাকার একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করতো। তার সাথে পটুয়াখালী মুসলিম পাড়ার এবিএ শহীন ফেরদৌস এর মেয়ে মারিয়ার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে শাহীন ফেরদৌস ও রুমা বেগম দম্পতি গত ৫ নভেম্বর মেয়ে মারিয়ার মাধ্যমে তানভীরকে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীতে তাদের বাড়িতে ডেনে আনেন।

তিনি বলেন, ‘গত ৭ নভেম্বর তানভীর বাসায় ফোন করে দুই হাজার টাকা বিকাশ করতে বলে। তবে পটুয়াখালীতে আসার বিষয়টি গোপন রাখে তানভীর। এরপর গত ১১ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে পটুয়াখালী থানা থেকে তানভীরের বোন নিপাকে ফোন করে ওই নামে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা পটুয়াখালী হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তানভীরের মৃতদেহ শনাক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কামরুন্নাহার দাবি করেন, ‘আমার মেয়ে নিপাসহ কয়েকজন মুসলিম পাড়ায় গিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছে। তারা জানতে পেরেছে তানভীরকে গত ১১ নভেম্বর সকাল ৭টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত আটকে রেখে মারিয়ার সাথে জোর করে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। তানভীর রাজি না হওয়াতে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। বাসায় রেখে ওর লাশ গুমের চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ঘটনাস্থল হতে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তানভীরকে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা অভিযোগ করে বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকা- জেনেও পুলিশ আমাদের হত্যা মামলা গ্রহণ করেনি। বরং উল্টো এবিএম শাহীন ফেরদৌস পটুয়াখালী সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। তাই নিহতের মা বাদী হয়ে শহীন ফেরদৌস, তার স্ত্রী রুমা বেগম, মেয়ে মারিয়া আক্তার ও পালিত ছেলে ইমরানের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নিহতের মা আরও বলেন, ‘তানভীর তার বোনের বিয়ের পরে সে বিয়ে করবে বলে মারিয়ার পরিবারের কাছে সময় চেয়েছিল। কিন্তু মারিয়ার পরিবার তা না মেনে উল্টো তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে একমাত্র সম্বল ছেলে হত্যার বিচার ও মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নিহতের মা।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত তানভীরের বোন ফেরদৌস ইসলাম, খালাতো ভাই ইমরান হোসেন, মামা হাবিবুর রহমান ও নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।