পটুুয়াখালীতে তানভীর হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ সমাবেশ

প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২০

জামাল আকন, পটুুয়াখালী প্রতিনিধি  ::

পটুয়াখালী সদর উপজেলাধীন বড় বিঘাই ইউনিয়নের ছেলে তানভীর আহমেদকে পৌরসভাস্থ মুসলিম পাড়ায় তার তার প্রেমিকার বাসায় নৃশংসভাবে হত্যাকারীদের কঠিন বিচার দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছেন বড় বিঘাই ইউনিয়নের এলাকাবাসী। শুক্রবার বেলা ১০ টায় খাটাশিয়া বাজারে তিন শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে তানভীর আহমেদ কে নৃশংসভাবে হত্যার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন এলাকার মোঃ আসাদুজ্জামান খলিল সিকদার, কারী মোঃ হুসাইন, তানভীরের মা মোসাঃ হারিসা বেগম, বড় বোন মোসাঃ নিপা আক্তার, ইউপি সদস্য মোসাঃ খাদিজা বেগম প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদান কালে তানভীর আহমেদের মা ও বড় বোন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, তানভীর তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, তার উপার্জন দিয়েই সংসার চলতো। তানভীরের বাবা প্যারালাইজড অবস্থায় ঘরে পড়ে আছেন, তার ওষুধপত্রও তানভীর কিনে দিতেন। তাদের ছেলেকে পরিকল্পনা মোতাবেক নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

 

তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তানভীর আহমেদ’র হত্যাকারীদের ফাঁসির আবেদন জানান। এলাকাবাসী জানান, তানভীরের মৃত্যুতে পরিবারটি পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছে। হত্যাকারীরা হত্যার ঘটনাকে অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তারা জানান। তারা তানভীর আহমেদকে নৃশংসভাবে হত্যাকারীদের দ্রুত কঠিন থেকে কঠিনতর বিচারের দাবী জানান। যেন এভাবে কোন মা বাবা সন্তান হারা ও বোন ভাই হারা না হন।

 

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী শহরের মুসলিমপাড়া এলাকায় গত ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় তানভীর আহমেদ নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ।

 

জানা যায়, মৃত তানভীর আহমেদ পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড়বিঘাই এলাকার মোঃ নুরুল হক মাস্টারের ছেলে। প্রায় দেড় বছর ধরে তানভীর আহমেদের সাথে পটুয়াখালী সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী মারিয়ার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্কে গড়ে ওঠে। বিষয়টি ঘনিষ্ঠতার সুবাদে উভয়ের পরিবারের মধ্যে প্রকাশ পায়। এই সুযোগে তানভীর রহমান প্রায়ই প্রেমিকার বাসায় আসা যাওয়া করতেন।

 

মঙ্গলবার বিকালে তানভীর তার প্রেমিকার বাসায় আসেন। বুধবার দুপুরে প্রেমিকার বাবা দোতলায় গিয়ে তানভীরকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলতে দেখে পান। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ তানভীরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।

Sharing is caring!