নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিবিদদের

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌযান দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতা একে স্বাভাবিক ঘটনায় রূপ দিয়েছে! এসব দুর্ঘটনার সঙ্গে বেশি পরিচিত নদী বিধৌত বরিশাল তথা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ। গত ২৯ জুন ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হবার ঘটনা নাড়া দিয়েছে সবাইকে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ চেয়ে সাধারণ জণগণের পাশাপাশি নৌপথ গুলোয় সুরক্ষা বৃদ্ধির জোর দাবি এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বরিশাল অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকেও। তারা নৌপথে দুর্ঘটনার নানা কারণ উল্লেখ করে সেগুলো সমাধানের পথ বাতলে দেবারও চেষ্টা করেছেন।

বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল নৌযান যাত্রীদের অনিরাপত্তার পিছনে নৌপথে বিশৃঙ্খলা ও অদক্ষ চালক দিয়ে নৌযান পরিচালনাকে দায়ী করেন। তিনি লঞ্চ মালিকদের প্রতি আহবান জানান যেন সকল নৌযানে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ চালক (মাস্টার) নিযুক্ত করা হয়। এছাড়া তিনি নৌপথে নৌ-পুলিশের টহল বৃদ্ধি করার কথাও বলেন। তিনি জানান, লঞ্চসমূহের ওভারটেকিং মনোভাব, নৌ ট্রাফিকিং সংকট ও নৌপথে মাছ ধরা ও ক্ষুদ্র নৌযানের আধিক্য কখনো কখনো বড় দুর্ঘটনা সৃষ্টি করে। যে কারণে নৌপথে শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নৌ-পুলিশ প্রশাসনের আরো সজাগ হওয়া উচিত।

নৌপথে যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য যথাযথ নদী শাসন ও নৌ-পথে শৃঙ্খলার কথা বললেন বরিশাল (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন। তিনি জানান, নদী শাসন ও নৌ-পথ গুলোতে শৃঙ্খলা আনয়নের জন্য সরকারি নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন ও প্রচলিত নীতিমালার আধুনিকায়ন জরুরী। তিনি আরো উল্লেখ করেন, নৌযান দুর্ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের যথাযথ বিচার আমরা দেখতে পারি না। এদের বিচার করা গেলে বেপরোয়া নৌযান চলাচল রুখে দিয়ে কিছু দুর্ঘটনা কমানো যেতো।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব বরিশালের সন্তান ইকবাল হোসেন তাপস নৌপথ সুরক্ষার পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে এই খাতের সরকারি অব্যবস্থাপনা ও নৌযান মালিকদের অতি মুনাফালোভী মনোভাবকে সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিজ্ঞাপন প্রচার করে যে তারা দেশকে উন্নয়নের চরম শিখরে পৌঁছে দিচ্ছে। কিন্তু দেশের এতবড় খাত নৌপথ সেখানে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। আদি আমলের উদ্ধারকারী সরঞ্জাম ও নৌ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তন না করা গেলে প্রতিবছর নৌদুর্ঘটনার যে ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে তা হ্রাস করা সম্ভব নয়। তিনি আরো উল্লেখ করেন, এই খাতে নৌযান মালিকদের বিরাট সিন্ডিকেট কাজ করে। যারা খেয়াল খুশি মতো নৌযান পরিচালনা করলেও কেউ তাদের আটকাতে পারে না। এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সহজ হতো।

নৌপথ দিনকে দিন যাত্রীসাধারণের জন্য অরক্ষিত হয়ে উঠছে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের অভাবে এমনটাই মনে করেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার আহ্বায়ক ইমরান হাবিব রুমন। তিনি বলেন, নৌযান যারা পরিচালনা করেন এবং নৌপথ নিরাপদ রাখতে যারা দায়িত্ব পালন করেন তাদের সবার প্রশিক্ষণ আধুনিক, বাধ্যতামূলক ও যথাযথ কার্যকর করা উচিত। তিনি আরো উল্লেখ করেন, কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু সেই তদন্ত কমিটি কেন জানি না কোন প্রতিবেদন ও পরামর্শ দাখিল করতে পারে না। কোন দুর্ঘটনার পর যথাযথ তদন্তে যে সকল কারণ অনুসন্ধান করা হয় সেগুলো জনসমক্ষে আনা গেলে পরবর্তী দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।

Sharing is caring!