নৌপথে ই-টিকেটিং চালুর সুপারিশ

প্রকাশিত: ৪:২৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

বার্তা ডেস্ক ॥ নৌপথের যাত্রীবাহী সব জলযানে আগাম টিকিট ছাড়া যাত্রী পরিবহন করা যাবে না -এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে রাজধানীর সদরঘাটসহ সব টার্মিনালে ই-টিকেটিং কার্যক্রম চালু করার সুপারিশ জানিয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটির এই সুপারিশ কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা খতিয়ে দেখবে এমন আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রণালয়।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য শাজাহান খান, রনজিত কুমার রায়, আছলাম হোসেন সওদাগর ও এস এম শাহজাদা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটির একাধিক সদস্য জানান, সাধারণ মানুষের নিরবিছিন্ন চলাচলের ক্ষেত্রে নৌপথ নিরাপদ হলেও নিয়মিত বিরতিতে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে চালকদের অদূরদর্শীতা ও অতিরিক্ত যাত্রীবহন এর জন্য দায়ী। আমরা কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করেছি, আগামীতে টিকিটবিহীন কোনো যাত্রী নেওয়া যাবে না। নৌপথের সব যাত্রীর পাশাপাশি লঞ্চ মালিকদের এ বিষয়ের নির্দেশনা মানতে হবে। এর জন্য আমরা সদরঘাটসহ সব টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য ই-টিকেটিং সিস্টেম চালুর সুপারিশ জানিয়েছি।

তারা আরো জানান, ই-টিকেটিং চালু করা হলে বর্তমানে যাত্রীদের যে হয়রানি ও দুর্ঘটনা ঘটছে তা অনেকাংশে কমে আসবে। অতিরিক্ত যাত্রীবহন ঠেকানো সম্ভব হবে। কারণ নৌপথে যারাই ঘরে ফিরতে চান তাদের অবশ্যই অনলাইনে আগাম টিকিট কাটতে হবে। এ ছাড়া ভিআইপি কিংবা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে যারা নৌপথে ঘরে ফিরতে চাইবেন তাদের কর্তৃপক্ষের সম্মতি নিয়ে টিকেট কেটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করতে হবে। এতে নৌপথে একটা শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

কমিটির সুপারিশ সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেছেন, তারা দপ্তরে ফিরে নৌ-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টি কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)’র সব শূন্যপদ পূরণের সুপারিশ করা হয়েছে। এ দুটি সংস্থায় জনবল কিভাবে পূরণ করা যায় এবং ঘাটতি কত তার বিস্তারিত তথ্য কমিটির আগামী সভায় উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া সভায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সব সংস্থার অধীন নেওয়া ২০১৯-২০ সালের প্রকল্পগুলোর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় প্রকল্পগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার সুপারিশ জানিয়েছে কমিটি।

কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্পের ধীরগতির কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এটা কাম্য নয়। একটা প্রকল্প নেওয়ার আগে সবকিছু পর্যালোচনা করে দেখতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রতিমাসে অন্তত একটি করে সভার কথা সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধিতে বলা থাকলেও করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে সংসদীয় কমিটির সভা বসেনি। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এতোদিন সভা না হলেও সব ধরণের সর্তকতা মেনে নৌ-পরিবহন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Sharing is caring!