নুসরাতের লাশ কবর দিতে পারছ, বাকিদের পারবা না : হুমকি আসামিদের

প্রকাশিত: ৪:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় ১৬ জন আসামিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাদের রাখা হয়েছে কারাগারের কনডেম সেলে। কিন্তু তারপরও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে নুসরাতের পরিবার। কারণ, গতকাল যখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের আদালত থেকে বের করা হচ্ছিল, প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় প্রকাশ্যে তারা নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছিলেন।

সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেছেন নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। তার চেয়েও গুরুতর অভিযোগ করেছেন নুসরাতের মা  শিরীন আখতার। শিরীন জানান, আসামিপক্ষের লোকজন তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। তারা হুমকি দিয়ে বলছে, ‘ঘরে চেরাগ (বাতি) জ্বালানোর মতো কোনো লোক থাকবে না। নুসরাতের লাশ কবর দিতে পারছ, ঘরের বাকিদের কবর দিতে পারবা না’।

টেনশনে শিরীন ঘুমাতে পারেন না। তার ছেলেরা বাইরে বাইরে থাকে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি অনুরোধ করেছেন, রায়ের পরও যেন তার ছেলেদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়।নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘আসামিরা আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে আমাদের হুমকি দিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে তারা আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। আমরা আশা করি রায় কার্যকর হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিরাপত্তা দেবেন।’

নুসরাতের বাবা মাওলানা একেএম মুসা বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত টেনশনে থাকি। আমরা এক পরিবার, আর আসামিরা ১৬ পরিবার। তাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন। আমাদের ভয় হয়; তারা আমাদের ক্ষতি করে কিনা? অনেক কিছু বলতে পারছি না, বলার সাহস পাচ্ছি না।এর আগে ৩০মে আদালতে কাঠগড়া থেকে মামলার বাদী নুসরাতের বড় ভাই মাহমদুল হাসান নোমান ও বাদী পক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খোকনকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে হুমকি-ধামকি দেয় আসামিরা।

বাদী পক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘প্রতিদিন আসামিরা আদালতের কাঠগড়া থেকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেছে। আসামিরা পারলে সেখানেই আমাদের খুন করতো। তাদের ব্যবহারে বুঝা যায় তারা সংঘবদ্ধ একটি খুনি চক্র। তাদের আত্মীয় স্বজনও হুংকার দিয়েছে।’

এ বিষয়ে ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী  বলেন, ‘রায়ের পর থেকে নুসরাতের বাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ বাড়ানো হয়েছে। তবে যারা নুসরাত পরিবারকে ক্ষতি করতে চাইবে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নুসরাতের পরিবার যখনই আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইবে, আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।’

এদিকে, নুসরাত হত্যায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামিকে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। ১৬ আসামিদের মধ্যে পুরুষ ১৪জনকে ৮টি সেলে রাখা হয়েছে। মহিলা ২জনকে ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারই আদালত থেকে ফিরে যাওয়ার পর পরই তাদেরকে কনডেম সেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফেনী জেলা কারাগারের তত্ত্ববধায়ক রফিকুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Sharing is caring!