নিয়ন্ত্রণহীন মাছ-মাংস ও সবজির বাজার: সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে সব পণ্যের দাম

প্রকাশিত: ৫:০৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২০

মনিটরিং ব্যবস্থায় গলদ

মোঃ জিয়াউদ্দিন বাবু ॥ কোন অবস্থাতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না মাছ, মাংস ও কাঁচা তরকারির দাম। বরং সপ্তাহের ব্যবধানে তা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। অভিযোগ উঠেছে বন্যা পরিস্থিতির অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা ঊর্ধ্বমূল্যে পণ্য বিক্রি করছেন। তার পাশাপাশি মূল্য বৃদ্ধির পেছনে প্রশাসনের বাজার তদারকিমূলক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়াকেও দায়ী করছেন ভোক্তারা।

শুক্রবার সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেলো এক এক বাজারে এক এক রকম দামে বিক্রি করা হচ্ছে মাছ, মাংস, তরি-তরকারি। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগী এক বাজারে ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও আরেক বাজারে তার কেজি রাখা হচ্ছে ১৭০ টাকা। আবার লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ এবং সোনালী বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায়।

অপরদিকে ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে গরুর মাংসের মূল্যও বাড়ছে ধাপে ধাপে। শুক্রবার প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৫৮০ থেকে ৬শত টাকায়। গত সপ্তাহে যার মূল্য রাখা হয়েছিল ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা। তবে গত সপ্তাহে যে দামে খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে এ সপ্তাহে তা একই ছিল।

এদিকে কাঁচা বাজার এবং মাংসের ন্যায় বেড়েছে মাছের দামও। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ইলিশের দাম প্রকার ভেদে ১০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৬শত টাকায়। গত সপ্তাহে যার মূল্য ৫০০ টাকার মধ্যে ছিল। এছাড়া শুক্রবার কেজি সাইজের ইলিশ ১৮শ থেকে ১৫শ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ এক দিন আগে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার এর প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১২শ থেকে ১৩শ টাকায়।

তাছাড়া তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়, রুই, কাতল বিক্রি হয়েছে প্রকার ভেদে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। পাবদা ৩শত, রূপচাঁদা প্রকার ভেদে ৩০০-৪০০ টাকা, শিং প্রকার ভেদে ৬০০-৮০০ টাকায়। তবে দাম স্থিতিশীল ছিল চিংড়ির। গত সপ্তাহে ৫৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া মাঝারী সাইজের চিংড়ি এ সপ্তাহেও একই দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

অপরদিকে মৌসুমের শুরু থেকেই বাজারে আসতে শুরু করে বিভিন্ন প্রকার সবজি। উৎপাদন বেশি থাকায় প্রথম দিকে এর মূল্যও কম ছিল। কিন্তু উত্তরাঞ্চলে বন্যার প্রভাব পড়ে দক্ষিণাঞ্চলের সবজির বাজারে। যার ফলে প্রতি সপ্তাহেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে বিভিন্ন সবজির মূল্য।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবার প্রতি কেজি ঢেড়শ বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা করে। পুঁই শাকের আটি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০-৩৫ টাকা এবং করলা ৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা দরে। যা গত সপ্তাহে ছিল ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে। ব্যবসায়ী এবং ভোক্তারা বলছেন এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সকল প্রকার সবজিতেই ৬-৭ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

নগরীর পোর্ট রোডের মৎস্য ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার কারণে মোকামে ইলিশের আমদানি কম। তাই মূল্যও গত সপ্তাহের থেকে একটু বেশি। তবে অন্যান্য দেশীয় মাছের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি তাদের।

অপরদিকে নতুন বাজারের সবজি বিক্রেতা আলামিন বলেন, ‘পাইকারী বাজারে সবজির দাম বেশি। যার কারণে খুচরা বাজারেও বেশি দামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ক্রেতারা নাখোশ হলেও আমাদের কিছু করার থাকছে না।

নগরীর সিটি পাইকারী কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী শাহিন বলেন, বাজারে সবজির আমদানি কমে গেছে। উত্তরাঞ্চলে বন্যার প্রভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে আবার দক্ষিণাঞ্চলেও জোয়ারের পানিতে অনেক ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এর প্রভাবে বাজারে সবজির আমদানি কম থাকায় মূল্য বেড়ে গেছে।

তবে ভোক্তাদের অভিযোগ ভিন্ন। তারা বলছেন বন্যার অজুহাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। এ সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা নিজেদের মত করে দাম রাখছেন। তার মধ্যে বাজার তদারকিমূলক অভিযান এখন চোখে পড়ছে না। সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে বাজার তদারকিমূলক অভিযান কার্যক্রমে জোর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।