নিহত পুলিশ সার্জেন্ট কিবরিয়ার বাসায় চুরি

প্রকাশিত: ১২:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক :: কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহত পুলিশ সার্জেন্ট কিবরিয়ার বরিশালের ভাড়াটে বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নগরীর মুন্সী গ্যারেজ এলাকার জমিদার বাড়ির বিসর্জন ভবনের তৃতীয় তলায় তার ভাড়াতে বাসায় চুরি হয় বলে জানায় বরিশাল কোতয়ালী থানা পুলিশ।

তবে চুরির ঘটনায় কি পরিমান ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষনিক জানাতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে কিবরিয়ার স্বজন আসার পরে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান জানা যাবে।

খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) খায়রুল  আলম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আকরাম হোসেনসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম জানান, নিহত সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় তার নিজ বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালীতে দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এজন্য কিবরিয়ার স্ত্রী সার্জেন্ট মৌসমী সহ স্বজনরা সকলেই পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কিবরিয়ার বাড়িতে আজ অবস্থান করছে। সেই সুযোগে বরিশাল নগরের মুন্সী গ্যারেজ এলাকায় তালা ভেঙে কিবরিয়ার ফ্লাট বাসায় প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা।

ওসি জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে দেখতে পান কিবরিয়ার ঘরে প্রবেশের দরজায় যেটার সাথে তালা দেয়া হয় সিটকিনির সেই লকটি ভাঙা। এছাড়া ঘরের মধ্যে আলমিড়া খোলা এবং ভেতরে থাকা সকল মালামাল তছনছ অবস্থায় পড়ে আছে। ধারনা করা হচ্ছে চোর চক্র ঘরে থাকা স্বর্ণালংকারসহ অর্থ সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে। তবে কিবরিয়ার স্ত্রী সার্জেন্ট মৌসুমী না আসা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই তাকে খবর দেয়া হয়েছে।

তাছাড়া এই ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানায় নিয়মিত মামলা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি নুরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে কাভার্ডভ্যানের চাপায় আহত পুলিশ সার্জেন্ট কিবরিয়া মারা যান। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। আটক যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যানচালক মো. জলিল মিয়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকার মৃত জলিল সিকদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কর্নকাঠী জিরো পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। বেলা সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী যমুনা গ্রুপের গাড়ি বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যানকে (ঢাকা মেট্রো উ-১২-২০৫৪) থামার সংকেত দেন সার্জেন্ট কিবরিয়া।

কাভার্ডভ্যানটি ট্রাফিকের সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া একটি মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটির সামনে গিয়ে ফের তাকে থামার সংকেত দেন। কাভার্ডভ্যানচালক জলিল মিয়া এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী সার্জেন্ট কিবরিয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির নলছিটি থানা পুলিশ ধাওয়া করে চালক জলিল সিকদারসহ কাভার্ডভ্যানটি আটক করে।

Sharing is caring!