নিষেধাজ্ঞা ভেঙে যাত্রী পরিবহনের চেষ্টা: মানামী লঞ্চের তিন স্টাফ আটক!

প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যাত্রী পরিবহনের প্রস্তুতিকালে দুর্ঘটনা কবলিত এমভি মানামী লঞ্চের মাস্টার ও সুপারভাইজারসহ তিনজনক আটক করা হয়েছে। একই সাথে দ্বিতীয় দফায় ওই লঞ্চটির সময়সূচি বালিত করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে ঢাকার সদর ঘাটে এই ঘটনা ঘটে।
এদিকে দুর্ঘটনার শিকার এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চের সময় সূচি পুনর্বহাল করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত শেষে সার্ভে করানোর পরে কারিগরি সনদ জমা দেয়ায় যাত্রী পরিবহনের অনুমতি পেয়েছে লঞ্চটি। এর পর পরই শনিবার রাতে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে এমভি সুন্দরবন-১০। বরিশাল নদী বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে ঢাকা সদর ঘাটের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক (টিআই) মাহমুদুর রহমান মাহফুজ জানান, ‘এমভি মানামী ও সুন্দরবন-১০ লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে দুটি লঞ্চই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে দুটি লঞ্চের সময় সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। তাদের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত পরবর্তী সার্ভে কর্তৃপক্ষকে দেখানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। তারা যাচাই-বাছাই করে ত্রুটি মুক্ত মনে করলে লঞ্চ দুটি পুনরায় নৌ পথে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে বলেও জানিয়ে দেয়া হয় লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে।

সুন্দরবন নেভিগেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, ‘সময় সূচি স্থগিতের পর পরই তারা তাদের লঞ্চ নিজস্ব ডক ইয়ার্ডে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করেন। পরে ঢাকা থেকে সার্ভে সনদ এনে শনিবার বরিশাল নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেন। তাই সময় সূচি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে শনিবার থেকেই বরিশাল নদী বন্দর থেকে এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চটিতে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন বিভাগ) আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ‘সুন্দরবন-১০ লঞ্চের সার্ভে সনদ পেয়েছি। তাই এটিকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্ঘটনা কবলিত এমভি মানামী লঞ্চ মেরামতের কথা বলে দুর্ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শুনতে পাই শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে সার্ভে সনদ ছাড়াই লঞ্চটি যাত্রী পরিবহনের জন্য ঢাকা সদর ঘাটে নোঙর করে। বিষয়টি সেখানকার বন্দর কর্মকর্তারা অবগত হয়ে লঞ্চটি চলাচলে বাধা দেন এবং তিনজন স্টাফসহ লঞ্চটি আটক করেছেন বলে শুনেছি।

সদর ঘাটে বিআইডব্লিউটিএ’র টিআই মাহফুজ বলেন, ‘সার্ভে সনদ ছাড়া লঞ্চ চলাচলের প্রস্তুতি নেয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্বিতীয় দফায় লঞ্চটির সময় সূচি স্থগিত করা হয়েছে। তাছাড়া শুক্রবার রাতে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও লঞ্চ চালানোর প্রস্তুতি নেয়ায় মাস্টারসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পরে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে আসে এমভি সুন্দরবন-১০ ও মানামী লঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে মেঘনার ইলিশা লাল বয়া পয়েন্টে পৌঁছায় সুন্দরবন-১০। এসময় সেখানে পানি কম থাকায় লঞ্চের গতি কমিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ চ্যানেলের মধ্যে এমভি মানামী লঞ্চ দ্রুত গতিতে এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চকে অতিক্রম করে চরে আটকে যায়। পরে মানামী লঞ্চটি পূর্ণ গতিতে পেছনের দিকে ধাবিত হলে পেছনে থাকা সুন্দরবন-১০ এর উপর আছড়ে পড়ে। এতে সুন্দরবন-১০ এর মাঝ বরাবর অংশ দুমড়ে মুচড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া মানামী লঞ্চের পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্তÍ হয়