নিজেকে বাঁচাতে চেয়ারম্যানকে ‘চালচোর’ বললেন কাজী মুরাদ, টেনে আনলেন হাসানাত আব্দুল্লাহর নাম

প্রকাশিত: ১১:১৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নারী কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে বিপাকে পড়া মুলাদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুরাদের বির্তক পিছু ছাড়ছে না। নিজের দিক থেকে সবার দৃষ্টি অন্যত্র ঘোরাতে গিয়ে টেনে আনলেন দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতির অভিভাবকখ্যাত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে।

 

পাশাপাশি মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুল আহসানকে ‘গমচোর’ দাবী করে উস্কে দিয়েছেন আরেক বিতর্ক। এ নিয়ে ওই উপজেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদরা। স্থানীয়ভাবে মূলদল আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের একাংশ বিতর্কিত কাজী মুরাদকে বহিষ্কারের দাবী তুলেছেন। নয়তো রাজনৈতিক সংঘাত হতে পারে বলে শঙ্কা তাদের।

 

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুরাদের বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্য, সরকারি প্রকল্পের জমি দখল, পরকীয়া করে ছাত্রলীগ সংগঠনকে হেয় করার মত ঘটনা ঘটিয়ে কয়েক দিন গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছিলেন তিনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) স্থানীয় একটি পত্রিকায় সাক্ষাতকার দিতে গিয়ে কাজী মুরাদ দাবী করেন, সদর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান কামরুল আহসান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সরকারি বরাদ্দ বিতরণ করতে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ আদায় করে আসছিলেন। তিনি চাল চুরি করে ধরা পড়েছেন। তিনি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, পঙ্গু ভাতা, টিউবওয়েল প্রদান, জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান, চাল বিতরণ, গম বিতরণ প্রভৃতি অনুদান বরাদ্দে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।

 

এসব নেয়ায় স্থানীয় মানুষ চেয়ারম্যানকে ভালো চোখে দেখছেন না। জনগণ চেয়ারম্যানকে এড়িয়ে চলছেন তার দুর্নীতির কারণে। তখন আমি সাধারণ মানুষকে সাহায্য সহায়তা করতে শুরু করলে আমার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। মূলত জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করতে চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে।
মুরাদ বলেন, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানতো আমি থাকতাম। ২০১৫ সালের ইউপি নির্বাচনে সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আমাকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়। মনোনয়ন দেয়ার চার দিনের মাথায় সেই মনোনয়ন নিয়ে যান আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। কি কারনে তিনি এমন কাজ করেছেন তা আজও জানি না।

 

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজী মুরাদ সদর ইউনিয়নের ভোটার না হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। মূলত তিনি দলকে ভুল তথ্য দিয়ে এবং মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মনোনয়ন নিয়েছিলেন। কিন্তু আসল তথ্য পাওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। অথচ নিজের দোষ আড়াল করতে এখন দায় চাপাচ্ছেন আওয়ামী লীগের ওপর।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আহসান বলেন, মুরাদ যা অভিযোগ তুলছে তা মিথ্যা ও তার মনগড়া। এগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক বক্তব্য। অসত্য তথ্য এভাবে প্রচার করা অন্তত তার দ্বারা কাম্য নয়। ও আমার সন্তান তুল্য। ওর সাথে আমার বিরোধ থাকার প্রশ্নই আসে না।

Sharing is caring!