নারী শিষ্যদের পিল খাইয়ে ধর্ষণ : ১০৭৫ বছরের জেল ধর্মগুরুর

প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১

বার্তা ডেস্ক ॥ যৌন নির্যাতন-সহ নারীদের ওপর অত্যাচারের একাধিক অভিযোগে ৬৪ বছরের জনপ্রিয় ধর্মগুরু ওকতারকে ১০৭৫ বছরের কারাদ- দিয়েছে তুরস্কের একটি আদালত। সোমবার দেশটির একটি আদালতে ওকতারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন, প্রতারণা এবং রাজনৈতিক ও সামরিক গুপ্তচরভিত্তিক কাজের অভিযোগ আনা হয়। পরে আদালত এ রায় দেন। এর আগে ডিসেম্বরে ওকতার বিচারককে বলেছিলেন, তার প্রায় এক হাজার গালফ্রেন্ড রয়েছে। পুলিশ জানায়, ওকতারের ভাবনায় নারীরা ‘পোষ্য’ বলে বিবেচিত হত। এই ধর্মগুরু দাবি করতেন, ‘তাঁর জীবনে প্রেম বিলিয়ে চলাই লক্ষ্য। অশেষ প্রণয় তার হৃদয়ে আছে।’

 

১৯৯০ সালে কয়েকটি কেলেংকারির ঘটনায় ওকতারের নাম সামনে আসে। কিন্তু ২০১১ সাল থেকে একাধিক মামলা জমতে থাকে তার নামে। এক নারী জানান, ধর্ম প্রচারের নামে নৃশংস যৌন অত্যাচার করেন ওকতার। পুলিশ পরে ওকতারের বাড়ি তল্লাশি করে ৯৬ হাজার গর্ভনিরোধক পিল পায়। যেগুলি জোর করে তার নারী শিষ্যদের খেতে বাধ্য করত এই ধর্মগুরু। তুরস্কের দৈনিক সাবাহ গত সোমবার ১১ জানুয়ারি এ খবর দেয়। তার বিরুদ্ধে নারীদের যৌন হয়রানি, নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন, প্রতারণা এবং রাজনৈতিক ও সামরিক গুপ্তচরভিত্তিক কাজের অভিযোগ আনা হয়। ৬৪ বছর বয়সী এই বিতর্কিত ওকতার জনসমক্ষে টেলিভিশনবিদ হিসাবে পরিচিত যিনি তাঁর অনুগামীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি চ্যানেল এ-৯ টিভিতে ঘন্টার পর ঘন্টা দীর্ঘ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। তবে ওকতার ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা একটি বিপজ্জনক অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। বিভিন্ন কায়দায় ব্ল্যাকমেইল এবং অন্যান্য অপরাধ কাজের সাথে ছিল আদনান ওকতার ও তার অনুসারীরা। এই গ্রুপটি ক্রমবর্ধমান অপরাধমূলক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল।

 

ওকতার, যাকে টিভিতে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এবং বিবর্তনবিরোধী বক্তব্য দিতে দেখা যেত অথচ এর আড়ালে তার বিরুদ্ধে আনীত অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালানোর গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায় যা একজন প্রকৃত ব্যক্তিত্বকে মানায়না। ২০০০ এর দশকে ওকতারের নাম ছিল সবার মুখে মুখে। তবে ১৯৮০ এর দশকে মনগড়া ধর্মতত্ব প্রচারের জন্য যখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে যখন তাকে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়, যদিও আদালত তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ পায় এবং মুক্তির আগে মনোরোগ হাসপাতালে কয়েক মাস কাটিয়েছিলেন ওকতার।

 

২০১১ সালে তিনি একটি বিবর্তনবিরোধী বইয়ের সিরিজ বের করে আবার আবির্ভূত হন এবং একটি টিভি স্টেশন চালু করেন। এর আগে বিবিসি তার গ্রেপ্তারের সময় ওকতারকে ব্রিটিশ ব্রডকার্স্টিং করপোরেশনের বিরুদ্ধে তার পরিচালিত ওয়েবসাইটে প্রচারণার অভিযাগ তোলে। বিবিসি আরও জানায়, তিনি তার নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালনা করেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর নিজ মনগড়া ধর্মীয় উপদেশ প্রচার করতেন। মিঃ ওকতার ও তার অনুসারীদের গ্রেফতারের পিছনে ছিল তুরস্কের আর্থিক অপরাধ বিষয়ক পুলিশ। ফৌজদারী সংগঠন পরিচালনা, কর ফাঁকির অপরাধ, যৌন নির্যাতন এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন সহ নানা অভিযোগে তাকে ও সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার সমালোচকরা ওকতারকে ধর্ম প্রচারককে ইসলামের অপপ্রচার চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেন। তিনি বিবর্তন তত্ত্বের তীব্র বিরোধী এবং “অ্যাটলাস অফ ক্রিয়েশন” নামে একটি বই লিখেছেন।