নানা নাটকীয়তা শেষে হতে যাচ্ছে ববি কর্মকর্তা পরিষদের নির্বাচন

প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) কর্মচারীদের দুটি পরিষদের নির্বাচন হয়ে গেল গত ১৪ ও ১৭ জানুয়ারি। কিন্তু কর্মকর্তা পরিষদের (অফিসার্স এসোসিয়েশন) নির্বাচন নিয়ে শুরু হয় নাটকীয়তা। প্রথমে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ কমিশনের দুজন সদস্য। পরবর্তীতে নতুন প্রধান কমিশনার সহ পুনঃগঠন করা হয় কমিশন।

 

তবে তফসিল ঘোষণায় বিলম্ব করায় গুঞ্জন ওঠে একটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্বাচন বিলম্বিত করা হচ্ছে। এমনকি নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য কমিশনের কাছে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বারবার অনুরোধ আসতে থাকে। এর প্রেক্ষিতে পরিষদের কার্যকরী কমিটির সঙ্গে সভা করে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুসারে গত সোমবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ জানুয়ারি সেখানে কর্মকর্তা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে, দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ২০ ডিসেম্বর একটি সভা করে পুনঃগঠিত নির্বাচন কমিশন। সভায় উপস্থিত ছিলেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস. এম. আরাফাত শাহরিয়ার, নির্বাচন কমিশনার মো. নজরুল ইসলাম হাওলাদার ও মোসা. দুলসাদ বেগম বীথি। উক্ত সভায় কমিশনের সদস্যরা করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও শীতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

শীতে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণের কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠান ঝুঁকিপূর্ণ বলে কমিশনের সব সদস্য একমত হন। সভায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে অফিসার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠান হচ্ছে কি না, এ বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর রাখারও সিদ্ধান্ত হয়। সভায় করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক হওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে মত দেন কমিশনের তিন সদস্য।

এ সময় গুঞ্জন উঠে, কর্মকর্তাদের দুটি পক্ষের একটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য কমিশন নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করছে। এর প্রেক্ষিতে গত ১১ ও ১২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন দুটি সভা করে। সভা দুটিতে নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। সেখানে জানানো হয়, কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছিল, করোনা পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক হওয়ার পর নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে, যার সত্যতা নেই। সভাগুলোতে করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাচনের বিষয়ে পরিষদের কার্যকরী কমিটির সবার মতামত চাওয়া হয়।

 

এই প্রেক্ষিতে পরিষদের সদস্যবৃন্দ সর্বসম্মতভাবে মত দেন যে, গঠনতন্ত্র অনুসারে ১৫ জানুয়ারির পর কার্যকরী কমিটি বিলুপ্ত হবে এবং বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েও ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে দায়িত্ব হস্তান্তর করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেটি সম্ভব না হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে। কার্যকরী কমিটির সদস্যরা জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সম্পন্নের পক্ষে মত দেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস. এম. আরাফাত শাহরিয়ার বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশনের কার্যকরী কমিটির সদস্যরা জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের মতামতের প্রেক্ষিতে আমরা ২৮ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছি’। তিনি আরও জানান, এবারই প্রথম ব্যালট পেপারে ‘না ভোট’ যুক্ত হতে যাচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এ নির্বাচন হবে দৃষ্টান্তমূলক। মাস্ক না থাকলে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না ভোটাররা।