নলছিটি পৌর নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত : পুনরায় নির্বাচন চান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা

প্রকাশিত: ৮:২৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১

আককাস সিকদার, ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ নানা অনিয়মের অভিযোগে ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে নলছিটিতে। নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকরা বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের এ আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ জানান। অন্যদিকে ভোটগ্রহণের দিন অনিয়ম, কেন্দ্র দখল, মেয়রের ব্যালট কেড়ে নেওয়া ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র মো. মজিবুর রহমান ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র কে এম মাছুদ নতুন করে নির্বাচনের দাবি করেছেন। তাঁরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্ত করলেই ভোট কারচুপির বিষয়টি উঠে আসবে।

 

এছাড়াও নির্বাচনে মেয়রের ব্যালট কেড়ে নিতে সহযোগিতাকারী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থীরা। এই দুই মেয়র প্রার্থীর দাবি, তাঁরা দুজনেই এ পৌরসভায় জনগণের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তখন কোন কারচুপির অভিযোগ ছিল না। জনগণ যাকে পছন্দ করেছেন, তাকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। কিন্তু গত ৩০ জানুয়ারির নির্বাচনে মেয়রের ব্যালট ভোটারের হাত থেকে কেড়ে নেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। ফলে জামানত হারান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী, যারা ইতোপূর্বে বিপুল ভোটে পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে কয়েকজন নবনির্বাচিত কাউন্সিলর জানান, কাউন্সিলরদের ব্যালট কেউ কেড়ে নেননি। তাদের ভোট সঠিকভাবে হয়েছে।

 

জানা যায়, স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে অনিয়ম, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালটে সিলমারার ঘটনায় তৃতীয় ধাপের তিনটি পৌরসভার ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করে অনিয়মের তদন্ত করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন ঘটেছে, কারা ঘটিয়েছে, কেন ভঙ্গ হলো, কারা দায়ী; এই বিষয়গুলোর ওপর তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরও যদি দেখা যায় যে অপরাধ ঘটেছে, তাহলে ব্যবস্থা নিবে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে ফৌজদারী বা নির্বাচনী আইনে মামলা দায়ের করার কথাও জানান নির্বাচন কমিশন।

 

নলছিটি পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল ওয়াহেদ খান বলেন, আমারতো বিশ্বাসই হচ্ছে না নির্বাচন কমিশন এ রকমের একটি আদেশ দিয়েছে। কারণ নলছিটির নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি। এ আদেশ দিলেও তা প্রত্যাহার করা উচিত।

 

স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম মাছুদ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। ৩০ জানুয়ারির আগে থেকেই বহিরাগতরা নলছিটি শহরে এসে মিছিল মিটিং ও মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। আমার বাসায় হামলার চেষ্টা করেছে। আমাকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভোটের দিন তারা কেন্দ্র দখল করে মানুষের কাছ থেকে মেয়রের ব্যালট কেড়ে নিয়ে নৌকায় সিল দিয়েছে। পুরো দিনটি মানুষের ভয়ভীতির মধ্যে কেটেছে। আমার কোন এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। আমি এই পৌরসভায় নির্বাচিত মেয়র ছিলাম। আমার জনসমর্থনও আছে। এই নির্বাচনে আমাকে ৩২৮টি ভোট দিয়ে দেওয়া হয়েছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সঠিকভাবে তদন্ত করে ভোটগ্রহণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান বলেন, আমি এই পৌরসভায় বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমাকে মাত্র ৩৭৫ ভোট দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির সমর্থক কাউকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এটা কোন নির্বাচনই হয়নি। আমি নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। যে নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ-শান্তিপূর্ণ পরিবেশে।