নবম ও দশম শ্রেণির বইতে ব্যাপক অসঙ্গতি

প্রকাশিত: ১১:৪৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১

বার্তা ডেস্ক :: দেশের নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রদের সমাজ ও পৌরনীতি বিষয়ক পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয় পর্বে গুরুতর ধরণের অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দেশের ২১ জন বিশিষ্ট জনের পক্ষ থেকে নাসিরুদ্দিন ইউসুফের গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক দলের পরিচিতিতে যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক দল “বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী” কে রাজনৈতিক দল হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে কিন্তু ১৯৭১ -এর মুক্তিযুদ্ধে দলটির ঘৃণিত মানবতাবিরোধী অপরাধের কোন উল্লেখ নেই। ইতিহাস এ কথা বলে যে জামায়েত ইসলামী ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান নেয় এবং মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও চার লক্ষাধিক নারী ধর্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তাদের যুদ্ধাপরাধের কারণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতে ইসলামকে যুদ্ধাপরাধী দল হিসাবে শনাক্ত করেছে এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত গণহত্যার দল হিসাবে জামায়াতের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে।তাই কোন অবস্থাতেই “জামায়েত ইসলাম”কে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দল হিসাবে উপস্থাপন করা যায় না। এই বিকৃত তথ্যমূলক পাঠ্যবই আমাদের কোমলমতি ছাত্রদের শুধুমাত্র বিভ্রান্তই করবে না, একইসাথে সত্য জানা থেকে বিরত রাখবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জামায়াতে ইসলাম মহান মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান ঘাতক দল ছিলো এই বইয়ে তার উল্লেখ নাই। উপরন্তু ১৯৭১’র জামায়াতের মানবতা বিরোধী কার্যকলাপেরও উল্লেখ নাই। স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে প্রণীত সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়েছিল, বাংলার মাটিতে জামায়াতে ইসলামের কোন স্থান ছিল না। বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে পরবর্তীকালে দলটি আত্মপ্রকাশ করে। যা উল্লেখ থাকা বাঞ্ছনীয় এবং উল্লেখ না থাকাটা বড় ধরণের অন্যায় বলে আমরা মনে করি।