নতুন ভয় উপসর্গহীন করোনা রোগী

প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥

সাধারণত করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর. সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা কিংবা শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি উপসর্গ থাকবে। এটাই স্বাভাবিক ও প্রচলিত ধারণা। কিন্তু বর্তমান সময়ে বরিশাল বিভাগ জুড়ে কোনো ধরনের উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত রোগীর শনাক্ত সংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিকে ভয়ংকর হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ উপসর্গ না থাকায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সহচার্যে অজান্তেই অনেকের মাঝে ভাইরাসটি ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। আর এই ভয়ংকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সুস্থ কিংবা অসুস্থ সবাইকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক স্বাস্থ্য বিধি যথাযথ ভাবে অনুসরণ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বরিশাল বিভাগের একমাত্র করোনা রোগ নির্ণয় ও সেবাকেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)। সেখানে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের কাজ করেন শাকিল আহমেদ ও ওবায়দুর রহমান নামের দুজন টেকনোলজিস্ট। তারা জানান, অনেকে জ্বর, সর্দি – কাশি সহ করোনার অনেক পরিচিত উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিতে আসেন। তাদের পরীক্ষার পর যখন ফলাফল দেয়া হয় দেখা যায় তারা করোনা আক্রান্ত নন। সাধারণ মৌসুমী বা ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত। আবার অনেকে বিদেশ গমন, সরকারি প্রয়োজন কিংবা অন্য কোন কারণে করোনার পরীক্ষা করতে আসেন। তাদেরকে দেখে মনে হয় পুরোপুরি সুস্থ এবং কোনো ধরনের করোনা আক্রান্তের উপসর্গও লক্ষ্য করা যায় না তাদের শরীরে। কিন্তু যখন ফলাফল নিতে এসে দেখা যায় তারা করোনা পজিটিভ (আক্রান্ত)।

বরিশাল বিভাগের সহকারী স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, কতজন করোনা রোগী উপসর্গহীন অবস্থায় শনাক্ত হচ্ছেন সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোন তথ্য আপাতত নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভাগের সবগুলো জেলা থেকে পাওয়া অনানুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করেছে যে শনাক্ত হওয়া করোনা আক্রান্ত রোগীর একটি বড় সংখ্যাই হচ্ছে উপসর্গহীন।

তিনি এই অবস্থাকে ভয়ংকর আখ্যা দিয়ে বলেন,‘যাদের মধ্যে করোনার নানা পরিচিত উপসর্গ দেখা যায় তারা পরীক্ষার আগে থেকেই সচেতন হয়। যে কারণে তাদের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ানোর সম্ভাবনা কম থাকে। কিন্তু উপসর্গহীন অবস্থায় যারা আক্রান্ত হন তারা নিজেরা সচেতন থাকতে পারে না। যেকারণে তাদের মাধ্যমে অন্যদের মাঝে করোনা ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে’।

এ ব্যাপারে শেবাচিম পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন জানান, যার শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) ভালো সে ভাইরাসটি বহন করলেও সেটার খুব একটা উপসর্গ দেখা যায় না। কিন্তু তাঁর মাধ্যমে অন্য একজন দুর্বল ইমিউনিটি সিস্টেমের অধিকারী ব্যক্তির শরীরে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সবাইকে করোনা প্রতিরোধক স্বাস্থ্য বিধি যথাযথ ভাবে অনুসরণের আহবান জানান ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল ও ডাঃ বাকির হোসেন। তারা বলেন,‘উপসর্গ বিহীন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অনেকের মাঝে করোনা ছড়ানোর ভয় থাকে। তাই সুস্থ কিংবা অসুস্থ সবাইকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক যে স্বাস্থ্য বিধি আছে সেটা মেনে চলতে হবে’।

এই দুজন চিকিৎসক জানান, যথাসম্ভব ভিড় (জনসমাগম) এড়িয়ে চলা, বাইরে বের হলে করোনা জীবাণু প্রতিরোধক সামগ্রী (মাস্ক, গ্লাভস, জীবাণুনাশক ইত্যাদি) ব্যবহার করা এবং বারবার সাবান দিয়ে দীর্ঘসময় নিয়ে হাত ধোয়া এখন অভ্যাসে পরিণত করতে হবে সবাইকে। তবেই উপসর্গবিহীন কিংবা উপসর্গধারী করোনা রোগীদের মাধ্যমে ভাইরাসটির সংক্রমণের হার কমবে।

Sharing is caring!