নগরীর ভাটারখালে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৪

প্রকাশিত: ৯:২৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল নগরীর ভাটারখাল এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বাসহ ৪ জন রক্তাক্ত হয়েছেন। বুধবার সকাল দশটায় কীর্তনখোলা নদীর তীর কোস্টগার্ড কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

 

আহতরা হলেন, হালিম শাহ’ন স্ত্রী বেবি বেগম, সোহরাব চৌধুরীর স্ত্রী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সুমি বেগম ও তার ছেলে সাফিন,এবং সুমির ছোট বোন উর্মি আক্তার।
এদের মধ্যে গুরুতর অন্তঃসত্ত্বা সুমি ও তার ছেলে সাফিন এবং বেবি বেগমকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং উর্মি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
হামলায় অন্তঃসত্ত্বা সুমির পেটে মারাত্মক জখম হয়েছে। বেবির মাথার উপরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম রয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, নগরীর ১০ নং ওয়ার্ড ভাটারখাল এলাকায় সিটি মার্কেট কাঁচাবাজারের একটি দোকান নিয়ে বহুদিন ধরে সুমি বেগম ও তার পরিবারের সাথে বেবি বেগম ও তার পরিবারদের বিরোধ চলে আসছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিরাজমান। বুধবার সকালে সুমি বেগমের ছেলে সাফিন কে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বেবি বেগম চড় থাপ্পড় মারেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুমি ও বেবি গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়।

এ বিষয়ে আহত সুমি বেগম জানান, সিটি মার্কেট এর কাঁচাবাজারের সুমির বাবা মোশারফ মিয়ার একটি দোকান দখল করেন বেবি ও তার সহযোগীরা। বিষয়টি কোতয়ালী মডেল থানার ওসির হস্তক্ষেপে সমাধান হয়।

এরপর থেকে বেবি ও তার পরিবারের সহযোগীরা সুমি ও তার পরিবারকে ভয় ভীতি সহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন।

সুমি বেগম বলেন, ঘটনার দিন বুধবার সকালে আমার ছেলে সাফিন কে হত্যাচেষ্টায় বেবি ও তার সহযোগীরা হামলা চালায়। আমি ও আমার বোন উর্মি জানতে পেরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেবি ও তার স্বামী হালিম, ছেলে সাদ্দাম, তারেক, মেয়ে রোশনী, মেয়েজামাই জীদনী, সাব্বির সহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে আমার উপর হামলা করে। এবং পেটের সন্তান নষ্ট করার চেষ্টা চালায়। এ সময় ছোট বোন উর্মি বাঁচাতে আসলে তাকেও পিটিয়ে আহত করে বেবি সহ অন্যান্য সহযোগীরা।

 

অন্যদিকে আহত বেবির মেয়ে রশ্নি জানান, বুধবার সকালে সুমির ছেলে শাফিন হঠাৎ অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেয় আমার মা বেবি বেগমকে। মা শাফিনকে জিজ্ঞেস করলে আরো অশ্লীল কথা বলে। এজন্য মা শাফিনকে একটা চড় থাপ্পড় দেয়। এরই জের ধরে সুমি ও তার বোন উর্মির সাথে এবং তাদের সহযোগী সজল, সোহেল, হৃদয় সহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার মা এর উপর হামলা চালায়। মা এর মাথার উপরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক জখম হয়েছে। তবে অবস্থার অবনতি হলে যেকোনো সময় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রে জানা যায়।