নগরীর ফুটপাতে ব্যবসা করতেও লাগবে ট্রেড লাইসেন্স

প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২১

খান রুবেল ॥ এখন থেকে ফুটপাতে ভ্রাম্যমাণভাবে ব্যবসা করতেও লাগবে ট্রেড লাইসেন্স। প্রতিটি এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ হকারদের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। এজন্য প্রতি বছর তাদেরকে দিতে হবে সুনির্দিষ্ট ফি’। এরই মধ্যে নগরীর ভ্রাম্যমাণ হাকারদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। আগামী ফেব্রুয়ারির শুরু বা শেষ দিকে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স শাখার তত্ত্বাবধায়ক মো. শহিদুল ইসলাম।

এদিকে, ‘ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ সময় উপযোগী বলে মনে করছেন বিশেষ মহল। তাদের মতে এ পদ্ধতির কারণে সিটি কর্পোরেশনের আয় যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি নগরীর সড়ক ও ফুটপাত যত্রযত্র দখলের হাত থেকে রক্ষা পাবে। নগর ভবন সূত্রে জানাগেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত এবং চলাচলের মূল রাস্তা দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

বিশেষ করে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড, কাকলীর মোড়, গির্জা মহল্লা, ফলপট্টি, সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন চত্বর, লঞ্চঘাট, নথুল্লাবাদ, রূপাতলী এলাকায় ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে নগরীর সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি সড়কে বাড়ছে যানজট, বিশৃঙ্খলা ও পথ চলতে গিয়ে বিড়ম্বনার পাশাপাশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। তাছাড়া সিটি কর্পোরেশনের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ।

সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স এর আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শাখার তত্ত্বাবধায়ক মো. শহিদুল ইসলাম। এরই মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের মেয়র মহোদয় ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের পক্ষে নয়। তবে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসার পাশাপাশি যত্রতত্র দখল ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তাদেরকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। লাইসেন্স পেতে প্রতিষ্ঠানের ধরন বুঝে সর্বনি¤œ পাঁচশত থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত ফি জমা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘ফুটপাতের ব্যবসায়ী যে কেউ আবেদন করতে পারবেন। তবে লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে যাচাই বাছাই করে নেয়া হবে। অন্য কোন ব্যক্তির মালিকানাধীন বা প্রতিষ্ঠানের সামনে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কোন জায়গায় ব্যবসার জন্য লাইসেন্স দেয়া হবে না।

সিটি কর্পোরেশনের এমন উদ্যোগ বাস্তবমুখী এবং সময় উপযোগী বলে মনে করছেন নগরীর সদর রোড এলাকার বাসিন্দা এবং রূপাতলীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছালমা বেগম। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নগরীর সড়ক এবং ফুটপাতের এমন হাল হয়েছে যে সাধারণ পথচারীরা স্বাভাবিকভাবে পথ চলতে পারছে না। প্রতিটি ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে সড়কের মধ্যেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার চিত্র চোখে পড়ছে। এর ফলে সড়কে চলতে গেলে বিরম্বনার শিকার হতে হয়।

একই কথা জানিয়েছেন, তিন চাকার থ্রি-ইহুলার মাহেন্দ্র চালক আনসার মল্লিক। তিনি বলেন, ‘সড়কে যানবাহন বেড়ে গেছে। সেই সাথে ফুটপাত দখল হয়ে আছে। যাত্রী ওঠা-নামা করাতে হলে সড়কের মধ্যেই গাড়ি পার্কিং করতে হচ্ছে। এতে যানজট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই যত্রতত্র ফুটপাত ও সড়ক দখল ঠেকাতে সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তিনি।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে আমার কাছে এখনও এমন কোন চিঠি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আসেনি। তাই এ বিষয়টি সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।