নগরীর পলাশপুরে মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশিত: ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার::

নগরীর পলাশপুরে মো. ইমন নামের ১১ বছর বয়সী শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু দাবি করলেও এলাকাবাসীর দাবি অপমৃত্যু। তাকে ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।

নিহত মো. ইমন ৫ নম্বর ওয়ার্ডস্থ ৮ নং গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিনের পুত্র। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্র বলে জানিয়েছেন পরিবারের স্বজনরা। তার মৃত্যু নিয়ে পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের পাল্টা পাল্টি বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি থানা পুলিশও ঘটনাটি রহস্যজনক মনে করছে।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ‘ইমন দুপুরে পুকুরে অনেক সময় ধরে গোসল করে বাসায় ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পরে বাসায় এসে জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে পড়ে যায় সে। শব্দ পেয়ে রান্না ঘরে থাকা মা ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পার্শ্ববর্তী ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে সেখান থেকে শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিকালে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তবে স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ‘ঘরের মধ্যে থেকে ইমনের গলায় ফাঁস দেয়া মৃতদেহ উদ্ধার করেন তার স্বজনরা। এসময় তার দু’পা ভাঁজ করা এবং শরীর ঝুলন্ত অবস্থায় ছিলো। ওই অবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী ফার্মেসিতে নিয়ে যান স্বজনরা। কিন্তু এটি আত্মহত্যার ঘটনা বুঝতে পেরে ফার্মেসি থেকে ডাক্তার মেহেদি নামে পরিচিত ব্যক্তি তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এবং সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বিকাল ৬টার দিকে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ‘শিশুটির কবুতর পালার শখ ছিলো। কিন্তু তার পরিবার সে বিষয়টি মেনে নেয়নি। গতকালও এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে গাল মন্দও করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই ইমনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এটি প্রকৃত আত্মহত্যা কিনা সে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত না হলেও এটি অপমৃত্যু বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।

এ প্রসঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা মহানগরীর কাউনিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বাশার বলেন, ‘আমরা আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিন্তু সেখানে গিয়ে মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। আমরা আসার আগেই মৃতদেহ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন স্বজনরা। এটি আত্মহত্যা নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু সেটা বোঝা যাচ্ছে না। তবে ময়না তদন্ত করা হলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।