নগরীতে সুদের টাকা না পেয়ে ব্যবসায়ীর দোকানে তালা

প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তরিকুল ইসলাম নামের এব ব্যক্তির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশের চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ১৭ দিন ধরে দোকানে তালা ঝোলানো থাকায় অভাব-অনটনে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে ওই ব্যবসায়ীর।
ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকায়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তরিকুল পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার আলম সিকদারের ছেলে। দীর্ঘ দিন যাবত ‘তরিকুল স্টিল হাউস’ নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন তিনি।

তরিকুল জানান, ‘ব্যবসার সুবাদে তিনি বাকেরগঞ্জের কালেঙ্গা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এনায়েত হোসেন পান্নার কাছ থেকে সুদে টাকা ধার নেন। পাশাপাশি তরিকুলের দোকানে ম্যানেজার হিসেবে চাকরি নেন খান মাসুদ। তবে এরা দু’জনেই একই স্কুলে শিক্ষকতা করেন বলে জানান তরিকুল।
অভিযোগ উঠেছে, স্কুল শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তারা দু’জনই নগরীতে বাসাভাড়া নিয়ে থাকেন। কেউই পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়মিত স্কুলে যান না। বরং বরিশালে বসে তারা সুদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা।

এদিকে সুদের টাকার জন্য তরিকুল নামের ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে ওই দুই সুদ ব্যবসায়ী আরও ক্ষিপ্ত হন। এমনকি তরিকুলকে সালিস মীমাংসার কথা বলে বিভিন্ন স্থানে ডেকে ক্ষতির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ তরিকুলের। বিষয়টি বুঝতে পেরেই জীবন শঙ্কায় তাদের নির্ধারিত স্থানে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলেও দাবি তার।

নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকার মেসার্স তরিকুল স্টিল হাউসের স্বত্বাধিকারী তরিকুল অভিযোগ করেছেন, এলাকার বেশ কয়েকজন মিলে তার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তারা তারিকুলকে জিম্মি করে অর্থ লোপাটের চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ‘ব্যবসার জন্য সাগরদী এলাকার এনায়েত হোসেন পান্নুর কাছ থেকে ২০১৯ সালে ৫ হাজার টাকা লাভে ৫০ হাজার টাকা সুদের বিনিময়ে নেন। এরজন্য তরিকুল প্রতিমাসে এনায়েত হোসেন পান্নাকে ৫ হাজার টাকা করে লাভ দিতেন।
গত তিন মাস করোনার মহামারির কারণে তারিকুল লাভের টাকা দিতে না পারায় সুদ ব্যবসায়ী এনায়েত হোসেন পান্না ও তারই দোকানের ম্যানেজার খান মাসুদ ও অজ্ঞাত বেশ কয়েকজন গত ২১ জুন তারিকুলকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তারিকুলকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেই সুযোগে পান্নু ও খান মাসুদ দোকানের তালা ভেঙে বেশ কয়েকটি চেক বই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যান বলে অভিযোগ তরিকুলের।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। তখন রাতের আঁধারে পান্নু ও তার সহযোগীরা আমাকে ধরে নিয়ে জোর পূর্বক একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করায়। তাছাড়া দোকানের উপর থাকা বড় একটি সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে যায়। এসব ঘটনায় তরিকুল কোতয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
তরিকুল বলেন, সুদের টাকা দিতে না পারায় খান মাসুদ ও এনায়েত হোসেন পান্না আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছে। এমনকি অনৈতিকভাবে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তারাও পার্টনার বলে দাবি করছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে খান মাসুদ হোসেন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, এই ঘটনার কোন সত্যতা নেই। পুরোটাই বানোয়াট। তাছাড়া তরিকুল নিজেই একটা চিটার। ও আমার বন্ধু পান্নার কাছ থেকে পাঁচ পার্সেন্ট সুদে প্রথমে ৫ লাখ এবং পরে আরও দেড় লাখ টাকা ধার নেয়। এমনকি ওই টাকা পরিশোধ না করে উল্টো ব্যবসায়িক পার্টনার করার কথা বলে আমার কাছ থেকেও মোটা অংকের টাকা ধার নিয়েছে। পার্টনার হিসেবে আমি নিজের টাকায় ওই প্রতিষ্ঠানে মাল ওঠালেও পরবর্তী আয়-ব্যয়ের হিসাব দিচ্ছিল না। সেই টাকার হিসাব-নিকাশ চাওয়াতেই সে এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।
তারা বলেন, শুধু আমাদের সাথেই চিটারি করেনি, ওর কাছে টাকা পাবে না এমন কোন লোক নেই। বিভিন্ন ব্যক্তি এবং এনজিও থেকে লোন এনে প্রতারণা করছে। যা রূপাতলীতে ওর ব্যবসায়িক এলাকার লোকজনও জানে। তাছাড়া সুদ ব্যবসার যে অভিযোগ করা হয়েছে সেটা সঠিক নয় বলে দাবি খান মাসুদের।