ভড়া নিয়ে তিন চাকার যানে নৈরাজ্য : নাকাল নগরবাসী

প্রকাশিত: ১১:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২০

এম. বাপ্পি ॥

বরিশাল নগরীতে যেন নৈরাজ্য চলছে তিন চাকার যানবাহনে। নিয়ম নীতির কোন ধরনের তোয়াক্কা না করে চালকরা যেমন নগরী দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, তেমনি যাত্রীদের জিম্মি করে পথেঘাটে নেয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়াও। যদিও ট্রাফিক বিভাগ তিন চাকার যান চলাচলের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এমনকি বিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের ডিসি মহানগরীতে মাহেন্দ্র চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তবে ভাড়ার ক্ষেত্রে কোন ধরনের নীতিমালা না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন গণপরিবহনের চালকরা। আর স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ তো রয়েছেই।

এদিকে যানজট এড়াতে নগরীতে হলুদ অটোরিক্সার চলাচল সীমিত করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। আর এ সুযোগে প্যাডেল চালিত রিক্সা এবং মাহেন্দ্রগুলো বাড়তি ভাড়া আদায় করছে যাত্রীদের কাছ থেকে। এক কথায় অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বরিশাল নগরীর গণপরিবহনে। আর এক্ষেত্রে চালকরা দোহাই দিচ্ছেন ঈদ আর করোনা প্রভাবের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাতেম আলী কলেজ থেকে হাসপাতাল রোড পর্যন্ত রিকশা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। আবার সদর রোড থেকে করিম কুটির পর্যন্তও রিকশায় নেয়া হচ্ছে একই ভাড়া। অন্যদিকে সদর রোড থেকে নথুল্লাবাদে রিকশা ভাড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা নেয়া হচ্ছে। হলুদ অটো রিকশায় চৌমাথা থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত ভাড়া যেমন ১০টাকা তেমনি চৌমাথা থেকে ব্রাউন কম্পাউন্ডের ভাড়াও ১০টাকা। আবার লঞ্চঘাট থেকে নথুল্লাবাদের ভাড়া যেমন ১০ টাকা, তেমনি হাসপাতাল রোড থেকে নথুল্লাবাদের ভাড়াও একই নেয়া হচ্ছে।

এছাড়া রুপাতলী থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত রুটে যেখানেই নামুক না কেন যাত্রীকে ১০ থেকে ১৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, গত কয়েকদিনে রিকশা ভাড়া সর্বনিম্ন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় ঠেকেছে। আর অটো রিকশার বাড়তি ভাড়া নিয়ে হেনস্তা হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষকরে মাহেন্দ্র চালকরা আরও বেপরোয়া। কথিত রয়েছে, বিএমপি দৈনন্দিন টহলের কারণে মাহেন্দ্রগুলো রিক্যুইজিশন করায় এই যানের চালকদের আচরণ অনেকটাই উদ্ধত। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে এদের হাতে যাত্রীদের লাঞ্ছিত হওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে।

তবে চালকরা জানিয়েছেন, ঈদের মৌসুম বিধায় তারা বকশিস হিসেবে ভাড়া সামান্য বেশি নিচ্ছেন। এছাড়া চলতি বছরের মার্চে লকাডাউনের কারণে পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েন তারা। তাই সে সময়কার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ৫/১০ টাকা বেশি ভাড়া নিচ্ছেন। তবে তাদের এধরনের দাবি অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।

নগরীর বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা তানিম জানান, লকডাউনের পূর্বে বাংলাবাজার মোড় থেকে সদর রোড যেতে ৫ টাকা ভাড়া দিতে হত। কিন্তু লকডাউন উঠে যাওয়ার পরপরই সেই একই ভাড়া এখন দ্বিগুণহারে দিতে হচ্ছে।

মুনসুর কোয়ার্টারের বাসিন্দা কামরুল খান কাকলীর মোড়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, মুনসুর কোয়ার্টার থেকে সদর রোডের ভাড়া সর্বোচ্চ ৫ টাকা হলেও এখন সেখানে ১০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। আবার লঞ্চঘাট পর্যন্তও ওই একই ভাড়া নেয়া হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা না থাকায় চালকরা যথেচ্ছ ভাড়া আদায় করছে। বিষয়টি অমানবিক উল্লেখ করে এ অবস্থা দ্রুতই নিরসন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে গত রোববার ডিসি (ট্রাফিক) কার্যালয়ে থ্রি-হুইলার যান বিষয়ক ত্রি-পাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেন মজুমদার করোনার অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে কোন ভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং অতিরিক্ত যাত্রীবহন না করার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত চালক দিয়ে যান চালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ওই বৈঠকে বরিশাল নগরীর অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী যানবাহনের ভাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন নির্দেশনা না থাকায় গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়ার অনিয়ম থেকে সহসাই উত্তরণ না ঘটার শংকা প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

এ বিষয়ে বরিশাল ট্রাফিক বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেন মজুমদার আজকের বার্তাকে জানান, করোনার প্রাদুর্ভাবরোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে সরকার ইতিমধ্যে নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় গণপরিবহগুলো ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। আর এ ক্ষেত্রে ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে ৬০ শতাংশ হারে। তবে যদি কোন যান চালক এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটান তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা।

Sharing is caring!