নগরীতে অন্ত:সত্ত্বা গৃহবধূকে কামড়িয়ে আঙুল ছিঁড়ে নিলো শাশুড়ি

প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ড ফরেস্টার বাড়ি এলাকায় যৌতুকের দাবিতে সাড়ে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নির্যাতনসহ কামড়িয়ে আঙুল ছিঁড়ে নিয়েছেন স্বামী, শাশুড়ি সহ তাদের পরিবারের সহযোগীরা। গত বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত গৃহবধূর নাম খাদিজা বেগম। তিনি ওই এলাকার ফেরদৌস খানের স্ত্রী। বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

আহত খাদিজা জানান, গত ১ বছর পূর্বে একই এলাকার সুলাইমানের ছেলে ফেরদৌসের সাথে ইব্রাহিম তালুকদারের মেয়ে খাদিজা বেগম এর পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাস পর স্ত্রী খাদিজা অন্তঃসত্ত্বা হন। এর পর থেকে স্বামী ফেরদৌস ও তার পরিবারের সহযোগীরা খাদিজার কাছে মোটা অংকের যৌতুক দাবি করেন।
খাদিজার বাবা ইব্রাহিম তালুকদার একজন দিনমজুর। তার মধ্যেও ইব্রাহিম মেয়ে খাদিজার সুখের কথা চিন্তা করে কিছু যৌতুক দেন।

 

তাতে ফেরদৌসের ও তার পরিবার প্রাথমিক অবস্থায় মেনে নিলেও কিছুদিন পর আবারো যৌতুকের জন্য খাদিজার উপর স্বামী ফেরদৌস-শাশুড়ি খাদিজা বেগম, শ্বশুর সোলাইমান সহ তাদের পরিবারের সহযোগীরা অমানুষিক নির্যাতন চালান। বিষয়টি নিয়ে স্ত্রী খাদিজা ও তার পরিবারের লোকজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে স্বামী ফেরদৌস ও তার পরিবারের সহযোগীরা আরো ক্ষিপ্ত হন। এরই জের ধরে ঘটনার দিন বিকেল চারটায় যৌতুকের দাবিতে স্বামী ফেরদৌস শাশুড়ি খাদিজা, শ্বশুর সোলায়মান সহ তাদের সহযোগীরা খাদিজার পেটের সন্তান নষ্ট করার চেষ্টায় নির্যাতন করেন। পাশাপাশি গৃহবধূ খাদিজাকে কামড়িয়ে আঙুল ছিঁড়ে নিয়ে যান শাশুড়ি খাদিজা বেগম।
এ সময় গৃহবধূ খাদিজার চিৎকারে তার মা আমেনা বেগম আসলে তাকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন ফেরদৌস সহ অন্যান্য সহযোগীরা।

 

স্থানীয়রা গৃহবধূ খাদিজা এবং তার মা আমেনা কে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে শাশুড়ি খাদিজা বেগম নাটকীয় কায়দায় শেবাচিমে ভর্তি হন।

এই ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে আহতের স্বজনরা জানান।