দ্বিতীয় দিনেও জোয়ারে ডুবেছে বরিশাল,পানি থাকবে আরো দুদিন

প্রকাশিত: ৯:৫৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥

টানা দুদিন যাবশ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘু চাপ,তীব্র বাতাস এবং পূর্ণিমার প্রভাবে বরিশাল নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কীর্তনখোলা নদীর পানি গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া উত্তরাঞ্চলীয় বন্যার পানি উজানের ফলে জেলার অধিকাংশ নদীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রায় সব নদীর পানি প্রবাহিত হয়েছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। এতে বুধবারের পর দ্বিতীয় দিনের মতো গতকালও নদীর পানি উপচে বরিশাল নগরী সহ অধিকাংশ জেলা-উপজেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চল ডুবে যায়। এদিকে বরিশাল নগরীর খাল ও ড্রেনগুলোতে বর্জ্য আটকে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ঘনীভূত লঘুচাপে সৃষ্ট মাঝারি মাপের বৃষ্টিতে জোয়ারের পানি আরো দুদিন বাড়ন্ত থাকার আশংকা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কীর্তনখোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় সবকটি নদ-নদীর পানি গতকাল বৃহস্পতিবার পুনরায় বিপদসীমা অতিক্রম করে। মেঘনা তীরবর্তী উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী উপজেলার দুই তৃতীয়াংশ জনপদ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভাগের ভোলা,পটুয়াখালী,বরগুনা ও ঝালকাঠি জেলার নদীগুলোতেও পানি বৃদ্ধি পায়। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলার চরাঞ্চলের অনেক পরিবার।

গতকাল রাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, বরিশাল নগরীর পার্শ্ববর্তী কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপদ সীমা (২৫৫ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভোলার দৌলতখান পয়েন্টে সুরমা – মেঘনা নদীর পানি বিপদ সীমা (৩৪১ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের পায়রা-বুড়িশ্বর নদীর পানি বিপদসীমা (২৮১ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঝালকাঠির বিষখালী নদীর পানি বিপদ সীমার (২০৮ সেন্টিমিটার) ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া বিষখালী নদীর বরগুনা পয়েন্টের পানি বিপদসীমার (২৮৫ সেন্টিমিটার) দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং পাথরঘাটা পয়েন্টে পানি বিপদসীমার (২৮৫ সেন্টিমিটার) ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীর পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে (২৬৮ সেন্টিমিটার) তিন সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাকেরগঞ্জের বুড়িশ্বর নদীর পানি বিপদ সীমার (২৪০ সেন্টিমিটার) ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাউবো।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরিশালের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাসুম জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের দরুণ তীব্র বাতাস এবং পূর্ণিমার প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ার হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিদপসীমা অতিক্রম করেছে। এর সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানি উজানের টানে নেমে এদিককার নদ নদীতে যুক্ত হবার কারণে জলমগ্নতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মোঃ মিলন হাওলাদার জানান, গতকাল সারাদিন ২৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আকাশে তাপযুক্ত মেঘমালার (বজ্র মেঘ) উপস্থিতির কারণে আজ (শুক্রবার) ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। এছাড়া পূর্ণিমার কারণে নদ-নদীতে জোয়ারের পানি আগামী দুদিন বাড়ন্ত থাকবে।