দোয়ারিকা-শিকারপুর সেতুর পাদদেশে মাঠজুড়ে কাশ ফুলের কোমড় দোলানো নৃত্য !

প্রকাশিত: ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২০

আরিফ হোসেন, বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি  ::

বর্ষাকাল বিদায় নিচ্ছে। শরৎকালও যাই যাই করছে। আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা। নীল আকাশজুড়ে অলস মেঘের অবাধ বিচরণ। খ- খ- মেঘের নিরুদ্দেশ যাত্রা। রোদের ঝলকানির পাশেই মেঘের ছায়া। মেঘ আর রোদের কানামাছি খেলার মাঝে বৃষ্টিও অংশ নিচ্ছে। এমন দিনে আপনাকে স্বাগত জানাতে কাশফুল ‘সাদা ডালি’ সাজিয়ে বসে আছে ।

দক্ষিণা বাতাসে কাশফুলগুলো ঢলে ঢলে আপনার সঙ্গে কথা বলবে। আপনাকে আহ্বান জানাবে তার সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। শরতের কাশফুলের এ রূপ সহজেই যে কারো চিত্তে দোলা দিতে বাধ্য করবে। নাগরিক ব্যস্ততার মাঝেও একটু সময় করে ঘুরতে আসতে পারেন কাশফুলের রাজ্য থেকে। খুব দূরে নয়; আপনার কাছেই রয়েছে কাশফুলের শুভ্র সাম্রাজ্য।

শিকারপুর মেজর এম এ জলিল সেতু সংলগ্ন উত্তর পাশে বরিশাল – ঢাকা মহাসড়কের রাকুদিয়া এলাকায় একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ফাঁকা জমিতে শরতের সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে আছে কাশফুল। তাই পরিবার নিয়ে যেকোন সময় ঘুরে আসতে পারেন আপনিও। তবে বিকেলে যাওয়াই ভালো।

সরেজমিনে দেখা গেছে – ‘এক কথায় অসাধারণ। গ্রামের মধ্যে যেনো এক কাশফুলের রাজ্য। এখানে আসলে যে কারো মন ভালো হতে বাধ্য।’ ঘুরতে এসে নিজের উচ্ছ্বাসের কথা প্রকাশ করুন আপনিও ।

মহাসড়কের উত্তর দিকে রাস্তা ধরে ভেতরের দিকে যত যেতে থাকবেন; ততই আপনি মুগ্ধ হবেন। কাশফুলগুলো মাথা নুয়ে আপনাকে স্বাগত জানাবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য ফেলে রাখা বালুর মধ্যে গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুলের গাছগুলোকে দেখে মনে হবে, ফুলগুলো সেজে আছে শুধু আপনাকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই। শেষ প্রান্তের দু’দিকে থরে থরে সাজানো কাশফুল দেখে মনে হবে, যেন আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কাশফুলের রাজ্যে। যতদূর চোখ যায়; ততটাই সাদার শুভ্রতা। অন্যপাশে সন্ধ্যা নদীর পানি। নদীর পাড় ধরেও কাশবনের মিলনমেলা।

অপরদিকে, দোয়ারিকা বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে বরিশাল – ঢাকা মহাসড়কের রামপট্টি এলাকায় অপর একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ফাঁকা জমিতে শরতের সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে আছে কাশফুলের বিশাল একটা অংশ।

এতো ভালো লাগা আর সৌন্দর্যের মাঝেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে ঘুরতে হবে। সন্ধ্যার পর কাশবনের বেশি গভীরে না থাকাই ভালো।
কিভাবে যাবেন: বরিশালের যেকোন এলাকা থেকে প্রথমে শিকারপুর মেজর এম এ জলিল ব্রিজে আসতে হবে। ব্রিজের পাশে উত্তরদিকে তাকালেই রাকুদিয়া কাশফুলের রাজ্য দেখতে পাওয়া যায়।

Sharing is caring!