দেড় মাস পর হুঁশ ফিরলো বরিশালের বিদ্যুৎ বিভাগের

প্রকাশিত: ১০:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥

ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এবং সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জরিমানা আদায়ের অভিযোগ এসেছিল বরিশালের বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ আমলে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দেশের সর্বাধিক প্রচারিত আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক আজকের বার্তায়। তখন টনক নড়লেও মাত্র দুদিন ধরে হুঁশ ফিরেছে বরিশাল নগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) কর্তৃপক্ষের। জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ও বুধবার ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে আসা অভিযোগপত্র ও বিভিন্ন পত্রিকায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বক্তব্য দেয়া ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে। আর দীর্ঘদিন পর হলেও ওজোপাডিকোর এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ভোক্তারা।

গত ২৬ ও ২৭ জুন দৈনিক আজকের বার্তা পত্রিকায় বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং অদ্ভুতভাবে অতিরিক্ত বিল ও জরিমানা আদায়ের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মোশাররফ হোসেন এবং একই এলাকার ভাড়াটিয়া সুপর্ণা দাশ। তারা জানান, গতকাল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বরিশাল ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিপণন কেন্দ্র-২ এর প্রকৌশলী। এর আগের দিন মুঠোফোনেও যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। গতকাল এসে বিগত দিনে অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ এবং যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন ওজোপাডিকোর এই কর্মকর্তা এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যান্যরা। আর প্রায় দুমাস পর এবং অতিরিক্ত বিল আদায় করার পরও পুরনো বিলের সমস্যা সমাধানে গ্রাহকের দোরগোড়ায় আসার ঘটনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উক্ত দুজন ভুক্তভোগী।

তারা জানান, বিগত কয়েকমাসে সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ – তিনগুণ হারে বিল নিয়েছে ওজোপাডিকো। তখন স্পষ্ট কোন সদুত্তর দেবারও চেষ্টা করে নি এই ঘটনার বিপরীতে। সরকার বিলম্বিত বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা আদায় বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও তারা সেটা পালন করেন নি। দীর্ঘদিন পর পুরনো ঘটনার বিষয়ে এখন সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে দেখে ভালো লাগছে। তবে ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেই প্রত্যাশা তারা রাখছেন ওজোপাডিকোর প্রতি।

বর্তমানে এখানকার ওজোপাডিকোর (বরিশাল, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি) ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ইঞ্জি.অমূল্য কুমার সরকার। তিনি এ ব্যাপারে জানান, তাঁর আওতাধীন ১ লাখ ৬৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। কিন্তু এত গ্রাহকের বিপরীতে পর্যাপ্ত জনবল নেই। যে কারণে বিল কিংবা সেবা সংক্রান্ত বিচ্ছিন্নভাবে দু – একটি ভুল হতে পারে। কিন্তু যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যাপারে তারা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। শুধুমাত্র কিছুটা সময় ক্ষেপণ হতে পারে। তাদের কাছে সেবা সংক্রান্ত কোন বিষয়ে অভিযোগ দিয়ে নিষ্পত্তি হয় নি এমন কথা কেউ বলতে পারবে না বলেও উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।

Sharing is caring!