দুলারহাটে গড়ে উঠেছে লাইসেন্স বিহীন এলইডি বাল্ব তৈরির কারখানা

প্রকাশিত: ৫:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

অনুমোদন হীন এলইডি কারখানা গড়ে উঠেছে ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলা দুলারহাট থানাধিন মুন্সীরহাট বাজারে। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই পেকেটের উপর ভুয়া ও আকর্ষণীয় নাম আকাশ দিয়ে এলইডি বাল্ব বিক্রি করছে পল্লি বিদ্যুৎতের দালাল মোঃ সালাউদ্দিন। নানা আকর্ষণীয় অফার দিয়ে কোন ধরনের গ্যারান্টি ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে এলইডি বাল্ব। কিন্তু এ বাল্ব কিছুদিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। আর এভাবেই প্রতারণার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

প্রচলিত পণ্যের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পণ্য এলইডি। তাছাড়া এলইডি পণ্য টেকসইও বটে। একটি এলইডি বাতির স্থায়িত্ব থাকে ৫০ হাজার ঘণ্টারও বেশি, যা সাধারণ বাতির তুলনায় কয়েকগুণ বেশি স্থায়িত্বশীল। আলোর শক্তি, মেয়াদ, তাপমাত্রা, পরিবেশের ওপর প্রভাব সব মিলিয়ে এলইডি এখন সবার পছন্দের প্রথমে। এলইডি পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসটিআইয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। তবে আমদানি করা এলইডি পণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ রয়েছে। কোনো ধরনের মান তদারকি ছাড়াই দেশে প্রবেশের সুযোগ থাকায় দেদারছে নিম্ম মানের পণ্য প্রবেশ করছে বাজারে। আর সরল মনে ক্রেতারা এসব পণ্য কিনে ঠকছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নিম্ম মানের এসব পন্য বিক্রি করছে মুন্সীরহাটের পল্লি বিদ্যুৎতের দালাল সালাউদ্দিন ।নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে ঘরোয়া অবৈধ কারখানা যার কোন ধরনে লাইসেন্স নাই। যার নাম দেওয়া হয়েছে মার্কেটেড বাইঃ আকাশ ইলেকট্রিক কোং। এ বাল্প ১ মাসের বেশি টিকছেনা জানান ক্রেতারা কিন্তু বিক্রি করছে ২০০ অধিক দামে। এ ছাড়াও সালাউদ্দিন এলাকার সহজ-সরল মানুষের কাজ থেকে পল্লি বিদ্যুৎতের লাইন দিবে বলে প্রতি ঘর থেকে চার হাজার থেকে সারে পাঁচ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয় তার নিজের তৈরি বাল্ব পল্লি বিদ্যুৎ ভুক্তভোগিরা না নিলে ঘর ওয়ারিংয়ের ক্লিয়ারেন্স দিচ্ছেনা।পল্লী বিদ্যুৎত ভুক্তভোগী বিল্লাল এবং হানিফ জানান, এলাকার প্রতি মিটারে সালাউদ্দিন ছয় হাজার টাকা করে নেয়। রফিজল এবং তার ভাই দুজনে মিলে১২ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তারা একনো মিটার পাইনি।

বাল্ব ক্রেতা সামসুদ্দিন, হানিফ এবং বিল্লাল বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ আসার সাথে সাথে আমরা তার দোকান থেকে ঘরের সম্পূর্ন বাল্বগুলো ক্রয় করি । ১মাস না যাইতে আমাদের বাল্বগুলো নষ্ট হয়েছে। এবং তার নিকট বাল্বগুলো নিয়ে আসলে সে বলে এই বাল্বের কোন ধরনের গ্যারান্টি নাই আবার কিনতে হবে।

এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ দালাল সালাউদ্দিনের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে সে জানান, আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একশ টাকার ট্রেড লাইসেন্স আট’শ টাকা দিয়ে এনেছি। নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদ সচিব আমাকে বলেছেন এই ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই এলইডি বাল্ব তৈরি এবং বাজার করতে পারবো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি এলইডি বাল্ব তৈরি এবং বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, আমার কাছে বানিজ্য মন্ত্রনালয়, শিল্প মন্ত্রনালয়, পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের ছাড়পত্র এবং বিএসটিআইয়ের সকল কাগজ পত্র আছে। গ্যারান্টি দিলে একজন ক্রেতা এখানে এসে সেটা পরিবর্তন করে নিতে পারেন। কিন্তু মানহীন এসব পণ্য তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করছে। একদিকে ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে, অন্যদিকে এলইডি লাইটের প্রতি মানুষ আস্থা হারাচ্ছে।

Sharing is caring!