দুর্নীতির অভিযোগ : শেবাচিমে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আদালতে মামলা

প্রকাশিত: ১০:৫৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবশেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক, উপ-পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকসহ ১০ জনকে মামলার বিবাদী করা হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি’র শর্ত বহির্ভূত নিজ জেলার প্রার্থীদের ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ পাইয়ে দেয়ার পাঁয়তারায় লিপ্ত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে দায়েরকৃত মামলায়।

 

মঙ্গলবার বরিশালের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে যৌথভাবে মামলাটি দায়ের করেছেন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ না হওয়া দুই পরীক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম ও জুয়েনা নীতি। আদালতের বিচারক রুবাইয়া আমেনা মামলাটির আদেশের জন্য পরবর্তী দিন ধার্যের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অন্যান্য বিবাদীরা হলেন, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বরিশাল জেলা প্রশাসক, বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়ার আশা এলাকার বাসিন্দা জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়া আবুল কালাম ওরফে তাজুল, পটুয়াখালীর বাউফল বিলবিলাশ এলাকার আশ্রাফুজ্জামান ও ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার জোরখালী এলাকার মিজানুর রহমান।

 

বাদী পক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান জানান, ‘২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ১২টি ক্যাটাগরিতে ৩২ জন ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বরিশাল, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, মাদারীপুর ও বাগেরহাট জেলার প্রার্থীদের আবেদন না করার জন্য বলা হয়। এরপ্রেক্ষিতে পাবনার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম ও জুয়েনা নীতি সকল কাগজপত্র সংযুক্ত করে ফার্মাসিস্ট পদে আবেদন করেন।
আবেদনের প্রেক্ষিতে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব হাসপাতালের উপ-পরিচালক তাদের প্রবেশপত্র ইস্যু করেন। কিন্তু ৫ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পরীক্ষার দিন কমিটির সদস্যরা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ পাইয়ে দিতে বাইরে থেকে নকল সরবরাহ করেন।

 

তিনি আরও জানান, ‘বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলা বাদে বাকী ৫টি জেলার কোটা বাদ দিয়ে নিয়োগের কথা থাকলেও বরিশালের বাসিন্দা ও হাসপাতালে কর্মরত কর্মচারীরা জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তাদের স্বজনদের জন্য আবেদন করেন। এদের মধ্যে মেহেন্দিগঞ্জ উলানিয়ার আশা এলাকার আবুল কালাম ওরফে তাজুল। তিনি বর্তমানে নগরীর রূপাতলী এলাকায় বসবাস করেন। আবুল কালাম সাবেক ও বর্তমান পরিচালকের ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় দুই বছর পূর্বে চাকরীর বয়স সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি গাজীপুর জেলার ঠিকানা ব্যবহার করে ড্রাইভার পদে আবেদন করেন।

 

একইভাবে হাসপাতালের অফিস সহকারি সৈয়দ নান্নার মেয়ে এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোদাচ্ছের কবির মেয়েকে চাকরী পাইয়ে দিতে একই জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আবেদন করেন। ওই তালিকায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রধান সহকারির নাম রয়েছে। কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে প্রবেশপত্র দেয়া ও পরীক্ষার সময় বাইরে থেকে উত্তর সরবরাহ করেন। আবুল কালাম শর্তানুসারে নিয়োগ পেতে অযোগ্য হলেও পরিচালকসহ অন্যান্যদের সহায়তায় তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া পটুয়াখালীর আশ্রাফুজ্জামান ও ঝালকাঠীর মিজানুর রহমান শর্তানুসারে অযোগ্য হলেও তারা ফার্মাসিস্ট পদের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। একই সাথে ৬ ফেব্রুয়ারি পরিচালক ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৪ জন প্রার্থীর পরীক্ষার ফলাফল বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরিচালকের চাকরী মেয়াদ আগামী মার্চ মাসে শেষ হবে। এতে তিনি তড়িঘড়ি করে বেআইনী ভাবে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়ার পাঁয়তারায় লিপ্ত হন। এঘটনায় নিয়োগের সকল কার্যক্রম বাতিল চেয়ে পুনরায় সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মামলাটি দায়ের করেন নিয়োগ পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ দুই পরীক্ষার্থী।