দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন ববি’র শিক্ষক-কর্মকর্তারা

প্রকাশিত: ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১

শফিক মুন্সি ॥ দক্ষিণ বঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ খ্যাত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বয়স প্রায় ১০ বছর। এতদিনেও সেখানকার চাকুরীরত কেউ আবাসন সুবিধা পান নি প্রতিষ্ঠানটি থেকে। মাঝখানে প্রথম উপাচার্যের সময়ে তৈরিকৃত ‘ট্রাস্ট ভবন’ নামক জায়গায় কয়েকজন শিক্ষককে পরিবার নিয়ে থাকতে দেবার সুযোগ দেয়া হয়। তবে সেটি স্থায়ী কোন ব্যবস্থা নয়। যে কারণে প্রতিমাসে অতিরিক্ত বাড়িভাড়া গুনতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তেন প্রত্যেকে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা দূর হওয়া শুরু হয়েছে চলতি ফেব্রুয়ারি থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক দশকেরও বেশি সময় পর ক্যাম্পাসেই বসবাসের সুযোগ পেতে শুরু করেছেন শিক্ষক এবং কর্মকর্তারা। সামনে সেখানকার সকল শিক্ষক – শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা – কর্মচারীদের নিয়ে সম্পূর্ণ আবাসিক ক্যাম্পাস তৈরির পরিকল্পনাও আছে কর্তৃপক্ষের।

 

স্বপ্নের নাম ডরমিটরি ‘এ’ ও ‘সি’ : গত পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যেই গড়ে তোলা দুটি ডরমিটরির একটিতে বসবাসের সুযোগ পেয়েছেন শিক্ষক – কর্মকর্তারা। ১০টি ফ্ল্যাটের সাতটিতে পরিবার নিয়ে ইতোমধ্যে উঠে পড়েছেন তারা। সরেজমিনে দেখা যায়, আধুনিক সুবিধা সমৃদ্ধ ছোট্ট ফ্ল্যাটগুলো রুচিশীলতার ছোঁয়ায় সাজিয়ে তুলেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। তারা নিজ নিজ অংশের ফ্ল্যাটগুলো আকর্ষণীয় করতে সাধ্যের মধ্যেই সাজিয়েছেন স্বপ্নের মতো করে। বরাদ্দপ্রাপ্ত বাসার দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে নানা চিত্রকর্ম, ঘর গোছানো হচ্ছে নতুন আসবাব দিয়ে। এমনকি আন্তরিকতা বাড়াতে নতুন প্রতিবেশিরা দুপুর কিংবা রাতে একে অন্যের বাসায় পাঠাচ্ছেন রান্না করা নানা পদ। আরেকটি ডরমিটরিতেও দ্রুত উঠে পড়বেন থাকার সুযোগ পাওয়া শিক্ষক – কর্মকর্তারা। আর এই দুটি ভবনের প্রাতিষ্ঠানিক নাম ডরমিটরি এ এবং সি।

 

খরচ প্রায় পাঁচ কোটি : এই দুটি ভবন করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে একটির জন্য ২ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং অন্যটির জন্য ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল প্রথমে। তবে খরচ বেড়ে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলোর গাফিলতির কারণে। ২০১৭ সালে হস্তান্তরের শর্তে ২০১৪ সালে ভবন দুটির কাজ শুরু করা হয়। কার্যাদেশ পাওয়া দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটি ছিল স্থানীয় সাবেক এক সাংসদের মালিকানাধীন। বিভিন্ন অজুহাতে কাজের গতি হয়ে পড়ে মন্থর। এরমধ্যে কয়েকদফা নির্মাণাধীন ভবন দুটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী ও ইলেকট্রনিক সংযোগ কেবল্ চুরি যাবার ঘটনা ঘটে। আর এসব বাধা দূর করে নির্মাণকাজ চলমান রাখতে গিয়ে বাড়তে থাকে খরচ। এরপর হঠাৎ ২০১৮ সালে কাজ বন্ধ হয়ে যায় প্রায় সমাপ্ত হওয়া ভবন দুটির। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেগুলো। যা সবশেষে মেরামত করে বর্তমানে বাসযোগ্য করা হয়েছে। এই মেরামতেও বেড়েছে খরচ।

 

লক্ষ্য এখন সম্পূর্ণ আবাসিক ক্যাম্পাস নির্মাণ : বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুর্শিদ আবেদিন বলেন, শিক্ষক – কর্মকর্তাদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নানা জটিলতায় আবাসন সুবিধা প্রদান সম্ভব হচ্ছিল না। ডরমিটরি গুলোর কাজ সমাপ্তের লক্ষ্যে বর্তমান উপাচার্য মহোদয় বারবার সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে বসেছেন। তাঁর বিশেষ তদারকিতে বিগত দিনে বন্ধ থাকা নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়। যা করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও পুরোদমে চলেছে। একই সঙ্গে ছাত্রীদের একটি আবাসিক হল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। ডরমিটরিতে বসবাস শুরু করা ইংরেজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান তানভীর কায়সার বলেন, ক্যাম্পাসের মধ্যে শিক্ষক – কর্মকর্তাদের অবস্থান শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ডরমিটরিতে থাকার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজগুলো আরো গতি পাবে। আর প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য ড. মোঃ ছাদেকুল আরেফিন জানান, ক্যাম্পাসে অবস্থানের মাধ্যমে যেকোনো সদস্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা জন্ম নেয়। এতে করে ক্যাম্পাসের পরিবেশ আরো উন্নত হবে। এসব ব্যাপার মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সদস্যদের জন্য ক্যাম্পাসেই আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তিনি।