দাড়িয়াল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদসহ ৪ জনের সাজা

প্রকাশিত: ৯:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাকেরগঞ্জে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধানের শীষে ভোট দিতে বাধ্য করার প্রতিবাদ করায় আটক রেখে মারধর ও ভাংচুর চালিয়ে ক্ষতিসাধনের অপরাধে দাড়িয়াল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইসতিয়াক আহম্মেদ মাসুদসহ ৪ জনকে পৃথক ধারায় ১ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাব্বির মোঃ খালিদ এ রায় ঘোষণা করেন।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত ইসতিয়াক আহম্মেদ মাসুদ উপজেলার পূর্ব দাড়িয়াল এলাকার মৃত মোক্তার হোসেনের ছেলে। এছাড়া অন্যান্যরা হলেন একই এলাকার মোখলেচ পালোয়ানের ছেলে মনির পালোয়ান, মৃত তৈয়ব আলী হাওলাদারের ছেলে সানু হাওলাদার ও সমির আহম্মেদের ছেলে ফয়সাল খান। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ইসতিয়াক আহম্মেদ মাসুদ ও ফয়সাল খান উপস্থিত থাকলেও মনির পালোয়ান ও সানু হাওলাদার অনুপস্থিত ছিলেন।

 

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ রাতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পূর্বে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইসতিয়াক আহম্মেদ মাসুদ তার দলবল নিয়ে দক্ষিণ কাজলাকাঠি এলাকার বিভিন্ন ভোটারদের ধানের শীষে ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর আনারস মার্কা ছাড়া অন্য কোন মার্কায় ভোট না দিতে ভয়ভীতি দেখান। এসময় সংবাদের ভিত্তিতে তাদের বাধা দিতে মনিরুজ্জামান খান লিটনসহ অন্যান্যরা এগিয়ে গেলে ইসতিয়াক আহম্মেদ মাসুদ ও তার সহযোগীরা তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এসময় তারা মনিরুজ্জামানকে মোতাহর খানের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

 

পরে তারা মনিরুজ্জামানের বহরের মোটর সাইকেল ভাংচুর করে প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ইসতিয়াক আহম্মেদ মাসুদসহ অন্যান্যরা ১৫/২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও পটকা ফাটিয়ে এলাকার ত্যাগ করেন। এসময় তারা ধানের শীষে ও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আনারস মার্কায় ভোট না দিলে খুন জখম ও বাড়িতে আগুন দিবেন বলে হুমকি দেন। এঘটনায় একই দিন বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। একই বছর ৩ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই লুৎফর রহমান আদালতে চার্জশিট জমা দেন। আদালত ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার ওই রায় ঘোষণা করেন।