দাফনের ১১ দিন পর কবর থেকে তোলা হলো গৃহবধূ ইমার মৃতদেহ

প্রকাশিত: ৬:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় পুড়িয়ে হত্যা করা দুই সন্তানের জননী ও তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ইসরাত জাহান ইমা’র মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য দাফনের ১১ দিন পরে গতকাল সোমবার থানা পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। পরে সোমবার দুপুরে ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। লাশ উত্তোলনকালে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ইমা হত্যা মামলা দায়েরের ৮ দিন অতিবাহিত হলেও মামলা কার্যক্রমে অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের। দায় এড়াতে হত্যা মামলার আসামী এবং শ্বশুরকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও প্রধান ঘাতক স্বামী মহাসিন রেজা, তার ভাই এবং পরকীয়া প্রেমিককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে রহস্যজনক কারণেই হিজলা থানা পুলিশ ইমা হত্যা মামলা কার্যক্রমে অগ্রগতি আনছে না। এমনকি গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ বা রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেনি বলে পুলিশের বিরুদ্ধে স্বজনদের অভিযোগ।

প্রসঙ্গত, পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় চলতি মাসের ১১ মে হিজলা উপজেলার টেকের বাজার সংলগ্ন বাসায় ইসরাত জাহান ইমাকে হাত-পা বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে স্বামী মহাসিন রেজার বিরুদ্ধে। ইমাকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হলে ১৮ জুন সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরে স্বামী মহাসিন রেজা ও তার পরিবারের লোকেরা কৌশলে ময়না তদন্ত ছাড়াই মৃতদেহ হিজলায় নিয়ে গিয়ে দাফন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, মেয়েকে হত্যার অভিযোগ এনে তার পরিবার থানা পুলিশের কাছে ধরনা দিলেও রহস্যজনক কারণে ওসি মামলা না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু পরবর্তীতে মৃত্যুর পূর্বে ইমাকে পুড়িয়ে হত্যার বিষয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত মামলা নিতে বাধ্য হয় পুলিশ। তবে আসামি গ্রেফতারে থানা পুলিশের অনীহার কারণে এজাহারভুক্ত আসামিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নিহতের শ্বশুরকে গ্রেফতার করলেও বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে হিজলা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) অসীম কুমার সিকদার বলেন, আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাছাড়া ইমা’র শ্বশুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদনের প্রস্তুতি চলছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

Sharing is caring!