দক্ষিণাঞ্চলে রাতভর দমকা হাওয়া-বজ্রবৃষ্টি : বরিশালে নিহত ২

প্রকাশিত: ১০:০৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার :: কয়েক দিনের অসহনীয় দাবদাহের পরে বরিশালজুড়ে ঝড়ো হাওয়াসহ প্রবল বৃষ্টি ও বজ্র বৃষ্টি হয়েছে। এসময় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার রাত তিনটার পর থেকে শুরু হওয়া ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি শেষ হয় মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে। তবে সোমবার রাত সাড়ে ৩টা থেকে আধাঘণ্টা জুড়ে প্রবল বর্ষণের সাথে গুম গুম শব্দে বজ্রপাত হয়।

সেই সাথে ঘণ্টায় ৫৪ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে থাকে। এর ফলে মানুষের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় । বিশেষ করে টিনের ঘরে বসবাসরত মানুষের নির্ঘুমভাবে কেটে যায় একটি রাত।

এদিকে টানা বর্ষণের ফলে বরিশাল শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে শহরের পথঘাট এমনকি বিভিন্ন অলিগলিতে ঢুকে পড়ে বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানি। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয় স্থানীয়দের।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, ‘৪ আগস্ট রাত পৌনে ৪টার দিকে ঝড়ো হাওয়ার সাথে গুম গুম শব্দে বজ্রপাত এবং মুষলধারে বৃষ্টি হয়। শুরু থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা ৪০ মিনিটে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, ভোর ছয়টার পরে বৃষ্টি এবং বাতাসের গতিবেগ কমে যায়। যে কারণে সকাল ৯টা পর্যন্ত রেকর্ড করা হয় ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি। মঙ্গলবার রাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে ভোলার বোরহানউদ্দিনে। সেখানে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া ভোলা সদরে ৮৫ মিলিমিটার, বরিশালে ৭৯ মিলিমিটার, বাকেরগঞ্জে ৫৭ মিলিমিটার, গৌরনদীতে ২৮ মিলিমিটার, বানারীপাড়ায় ২৬ মিলিমিটার ও দৌলতখানে ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

এদিকে প্রবল বর্ষণের কারণে তাপমাত্রা নেমে যায়। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী বৃষ্টির পরে মঙ্গলবার সকালে বরিশালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অপরদিকে বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জনজীবনে স্বস্তি ফিরলেও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় জলাবদ্ধতা। সরেজমিনে দেখাগেছে, প্রবল বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ জনপদ পানির নিচে তলিয়ে ছিল।

বিশেষ করে সদর রোড, প্রেসক্লাব সংলগ্ন আগরপুর রোড, পলাশপুর, রসুলপুর, চরের বাড়ি, বঙ্গবন্ধু কলোনী, নামার চরসহ বেশ কিছু নিম্নাঞ্চলের মানুষ জলাবদ্ধতায় ঘরবন্দী হয়ে পড়ে। যদিও বেলা বাড়ার সাথে সাথে শহরের জলাবদ্ধতা কেটে যায়।

Sharing is caring!