থানায় বৈঠক করে সিনহাকে খুনের সিদ্ধান্ত


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০২০

বার্তা ডেস্ক :: টেকনাফ থানায় বসেই সাবেক ওসি প্রদীদ কুমার দাশের নেতৃত্বে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে খুনের সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব। রোববার দুপুরে চার্জশিটের বিভিন্ন বিষয় জানাতে ঢাকায় র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব।

খুনের পরিকল্পনার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, সিনহা মো. রাশেদ বন্ধুবৎসল ছিলেন। টেকনাফে তার ইউটিউব চ্যানেল চালুর অংশ হিসেবে গিয়েছিলেন। দ্রুতই তার সঙ্গে এলাকাবাসীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তিনি টেকনাফের মানুষের ওপর প্রদীপ কুমার দাশের নির্যাতন-নিপীড়নের কথা জানতে পারেন। ইয়াবা কেনাবেচায় সম্পৃক্ততারও প্রমাণ পান। তার কাছে এমন কিছু তথ্য ছিল, যেগুলো প্রকাশ পেলে প্রদীপ কুমার দাশ অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যেতে পারতেন। এসবের ভিত্তিতে তিনি টেকনাফ থানায় প্রদীপ কুমার দাশের সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় প্রদীপ কুমার দাশ তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলেন। কিন্তু টেকনাফ না ছেড়ে সিনহা তার কাজ চালিয়ে চান।

পরে প্রদীপ থানাতেই উপপরিদর্শক লিয়াকত ও তিন তথ্যদাতার সঙ্গে বৈঠক করেন। হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতেও প্রদীপই নির্দেশ দেন।

এছাড়া অভিযুক্তদের কয়েকজন ‘ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার’ চেষ্টা করেছেন-এমন মন্তব্য করে আশিক বিল্লাহ বলেন, জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে লিয়াকত তিন সোর্স নুরুল আমিন, নেজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজের সঙ্গে হত্যা পরিকল্পনা নিয়ে সাক্ষাৎও করেছিলেন, সে তথ্যও তদন্তকারী কর্মকর্তা জানতে পেরেছেন।
গুলি করার পর সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করতেই তাকে হাসপাতালে নিতে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং পরে লোক দেখাতে হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনি বলেন, প্রদীপ সরকারি বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার করে কক্সবাজারে অভয়ারণ্য তৈরি করেছিল।

এদিকে রোববার সকাল সোয়া ১০টায় কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হয়। চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম। আদালত ২৬ পৃষ্ঠার চার্জশিটটি গ্রহণ করেছেন। মামলাটি তদন্ত করতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ৪ মাস ১০ দিন অর্থাৎ ১৩০ দিন সময় নিয়েছেন। চার্জশিটে অভিযুক্ত ১৫ জনের মধ্যে টেকনাফ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাগর দে পলাতক। বাকি সব আসামি কারাগারে। গ্রেফতার হওয়া ১৪ জনের মধ্যে ১২ জন দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি দেননি বরখাস্ত ওসি প্রদীপ দাশ ও রুবেল শর্মা। তদন্ত কর্মকর্তারা ৮৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। এর বাইরেও বিভিন্ন ধরনের আলামত ও ডিজিটাল কনটেন্ট পর্যালোচনা করেছেন।

চার্জশিটে আসা বাকি ১৩ আসামি হলেন-এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল-মামুন, মোহাম্মদ মোস্তফা, এপিবিএনের তিন সদস্য এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাজীব ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী নুরুল আমিন, নেজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজ, টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মা এবং সাবেক এএসআই সাগর দেব।

৩১ জুলাই কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ফাঁড়িতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনার পর মোট চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ ও রামু থানায় তিনটি মামলা করে। ওই তিন মামলায় সিনহা মো. রাশেদ এবং ডকুমেন্টারি নির্মাণে তার দুই সহযোগী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে মাদক ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। তবে পুলিশের দায়ের করা মামলায় অভিযোগের ‘সত্যতা পায়নি’ র‌্যাব। তাই ওই অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি চেয়ে র‌্যাব আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। ১৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেয়া মামলাটি করা হয়েছিল কক্সবাজার আদালতে। এটি করেন সিনহা মো. রাশেদের বোন শারমিন শাহরিয়ার।