তীব্র বর্ষণে পানিবন্দী বরিশাল নগরী

প্রকাশিত: ১০:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ::

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার দরুণ সৃষ্ট অতিরিক্ত জোয়ার ও তীব্র বর্ষণে বরিশাল নগরীতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। গত ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নিম্নচাপের কারণেই মূলত এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর পার্শ্ববর্তী কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে।

বর্তমানে উপকূল ও সমুদ্র বন্দর গুলোতে ৩ নং সতর্কতা সংকেত জারি রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে আগামী রোববার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে শুক্রবার বিকেলে দেখা গেছে, নগরীর মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত সদর রোডের অশ্বিনী কুমার (টাউন) হল চত্বর, শের ই বাংলা একে ফজলুল হক এভিনিউ (কাকলীর মোড়), জেলখানা মোড় ও পুলিশ লাইনের রাস্তায় পানি জমেছে। এছাড়া গত দুদিন যাবত নগরীর বটতলা থেকে চৌমাথা পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে জমে থাকা পানি সৃষ্টি করেছে জলাবদ্ধতা। এছাড়া রূপাতলী হাউজিং, কালুশাহ সড়ক, ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড, আমির কুটির লেন, বগুড়া রোড, কাউনিয়ার নিম্নাঞ্চল, রুপাতলী,
নথুল্লাবাদ প্রভৃতি এলাকায় পানি জমার কথা জানিয়েছেন নগরবাসী।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর কোল ঘেঁষা কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপদসীমা (২৫৫ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

অন্যদিকে,আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গত তিনদিন যাবত (২১-২৩ অক্টোবর) মোট ২৫৫ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে নগরীতে। মাঝারী মাত্রার এ বৃষ্টিপাত আজকেও (শনিবার) জারি থাকতে পারে। বর্তমানে নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে ফরিদপুর – রাজবাড়ি অঞ্চল হয়ে ভারত সীমান্ত অতিক্রম করছে।

আগামী রোববার নাগাদ নিম্নচাপ পরিস্থিতি কেটে গিয়ে আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের পর্যবেক্ষক প্রণব কুমার রায়। এরপর নদীর অতিরিক্ত জোয়ার এবং ভারী বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে প্লাবিত অঞ্চলের পানি শুকিয়ে যাবে বলে ধারণা এই আবহাওয়াবিদের।

Sharing is caring!