তিন দুর্বৃত্তের নাম প্রকাশ করে ববি শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১

শফিক মুন্সি ॥ মঙ্গলবার গভীর রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দোষী তিনজন দুর্বৃত্তের নাম প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনায় এসব দুর্বৃত্তদের নেতৃত্বদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, সেদিন রাতে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে নগরীর রূপাতলী এলাকায় বসবাসরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ হামলায় নেতৃত্ব দেন বরিশাল পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন, বরিশাল পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মানিক এবং তেল মামুন নামের একজন সহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতা।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নীচ তলায় প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় সয়েল এন্ড এনভায়রনমেন্ট সাইন্স বিভাগের শিক্ষার্থী সুজয় শুভ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এদিন বিকেলে একটি মামলা করার কথা প্রচার করেছেন। কিন্তু মামলাটিতে কোন আসামির নাম উল্লেখ করা হয় নি। যা সম্পূর্ণ ভাওতাবাজি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রহসনের সামিল।

এসময় শনাক্তকৃত দুর্বৃত্তদের আসামি করে শুক্রবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে পুনরায় মামলা করার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় সড়ক অবরোধ সহ জোরালো কর্মসূচিতে যাবার ঘোষণা দেন তারা। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলার বাদী করা হয়েছে রেজিস্ট্রার ড. মুহসিন উদ্দিনকে। কিন্তু মামলার আসামিদের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করা হয় নি সেখানে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে ক্যাম্পাসের ৬দফা স্তম্ভের সম্মুখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিকেলে মামলার সংবাদ প্রকাশিত হলে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যায় উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেন উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা।

এরপর রাত সাড়ে আটটায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মামলার ঘটনার নিন্দা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এরমধ্যে ১১ জন নগরীর শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার বিকেল পাঁচটায় ১০ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শেষে তিনদফা দাবি পূরণে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছেড়ে দেন তারা।