তালিকায় নাম না থাকলে জুটবে না করোনার টিকা!

প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২১

* বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হবে না
* প্রয়োগ হবে বিনামূল্যে
* চলছে টিকা প্রয়োগের প্রশিক্ষণ

 

শফিক মুন্সি :: করোনার টিকা কারা পাবেন সে ব্যাপারে তালিকা প্রস্তুত শুরু হয়েছে বরিশালে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তৈরিকৃত এ তালিকায় যাদের নাম থাকবে না তারা টিকা গ্রহণ করতে পারবেন না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে বিনামূল্যে প্রয়োগ শুরু হবে ভারত থেকে আমদানি করা টিকার। তবে প্রাথমিকভাবে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির সুযোগ রাখা হচ্ছে না। আর তালিকা তৈরিতে যেন কোনোরকম দুর্নীতি না হয় এমন দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ।

 

তালিকা তৈরিতে ১৫ ক্যাটাগরির ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের একটি সূত্র। এই ক্যাটাগরিগুলো হচ্ছে, মহামারি মোকাবিলায় সরাসরি সম্পৃক্ত সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী, সকল রেজিস্ট্রেশন ভুক্ত বেসরকারি ও স্বতন্ত্র স্বাস্থ্য সেবা কর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য (পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, ভিডিপি), প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্য (সেনা- নৌ-বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড, কোস্ট গার্ড)। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কর্মী, ধর্মীয় নেতা, মৃতদেহ সৎকার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি; বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহে নিয়োজিত ব্যক্তি; রেলস্টেশন, নৌ ও বিমান বন্দরে নিয়োজিত কর্মী; মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও জেলা-উপজেলায় নিয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী এবং ব্যাংক কর্মকর্তা- কর্মচারী নিয়ে তালিকা করা হচ্ছে।

টিকা কোনো দোকানে পাওয়া যাবে না উল্লেখ করে বরিশালের সিভিল সার্জন ডাঃ মনোয়ার হোসেন জানান, করোনার টিকা বিনামূল্যে সরকারিভাবে প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে এখন পর্যন্ত। বিভিন্ন টিকাকেন্দ্রে প্রেরিত তালিকা অনুযায়ী ধাপে ধাপে সকলকে টিকা দেয়া হবে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, বরিশালে স্বাস্থ্যসেবা খাতের সঙ্গে জড়িত একটি দল ঢাকায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তারা ফিরে এসে জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মীদের টিকা প্রদান বিষয়ে প্রশিক্ষিত করবেন।

কারা করছেন তালিকা এমন প্রশ্নের জবাবে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, উপজেলা পর্যায়ে স্ব স্ব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রাথমিক তালিকা করবেন। এসব তালিকা যাচাই বাছাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনোর জন্য পাঠাবেন প্রতিটি জেলার প্রশাসকবৃন্দ (ডিসি)। অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী দুই ডোজ করে টিকা দেয়া হবে প্রত্যেককে। তবে টিকা গ্রহীতার তালিকা তৈরিতে যেন কোনরূপ দুর্নীতি না হয় সে ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিলেন বরিশালের নাগরিক প্রতিনিধিরা। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ‘তালিকা নিয়ে যেন বাণিজ্য না হয় সে ব্যাপারে প্রথমেই সজাগ হতে হবে সকলকে। একইসঙ্গে করোনার সত্যিকারের সম্মুখসারীর যোদ্ধারা যেন টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বঞ্চিত না হন সেদিকে লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি তালিকা তৈরির কাজে নিয়োজিতদের কাছে’।

আর বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলার সদস্য সচিব ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান, তালিকা করার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা দলীয় পরিচিতি যেন বিবেচ্য বিষয় না হয়। যারা করোনা আক্রান্ত হবার যত বেশি ঝুঁকিতে আছেন তারা যেন তত দ্রুত টিকা পান।

তবে তালিকা তৈরিতে সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকার। তিনি জানান, সরকার করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এবং সংক্রমণ রুখতে দায়িত্বে থাকা সম্মুখ যোদ্ধাদের ব্যাপারে নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করেছে। সেই নীতিমালা অনুযায়ী টিকা গ্রহীতাদের তালিকা প্রস্তুত করছে বিভাগের ছয়টি জেলা প্রশাসন ও একটি সিটি কর্পোরেশন।